ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রী অফিস ভবনের বেহাল দশা

ধস আতংক নিয়েই চলছে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম

আ. ছোবহান লিটন
ফরিদগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস ভবনের বেহাল দশা দির্ঘদিন যাবত। আতংক নিয়েই চলছে নিয়মিত অফিসের কার্যক্রম। বার-বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েও নতুন ভবনের বরাদ্দ করানো সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাছাড়া চরম ঝুঁকির মধ্যে অফিসের কাজ চললেও এ পর্যন্ত গণপূর্ত বিভাগ ভবনটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ করতে পারেনি।
স্বাধীনতা উত্তর ১৯৬৯ সনে দ্বিতল বিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ করার পর ক্ষুদ্র মেরামত ছাড়া বড় ধরণের কোন মেরামত কাজ হয়নি। অতি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমে অল্প বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথিপত্রগুলো ভিজে বিনষ্ট হয়ে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও লোকজনকে। কর্মকতা-কর্মচারীদের কক্ষগুলো বাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাব-রেজিষ্ট্রারের অবস্থানের কক্ষটির ছাদেও পলেস্তর উঠে গিয়ে রড ভের হয়ে থাকতে দেখা গেছে। তাছাড়া প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে পলেস্তর, কখনও দলিলের উপর আবার কখনও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মাথায়। যে কোন মুহূর্তে ছাদ ধসে বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা। এ দপ্তরটিতে পদ সংখ্যার বিপরীতে ৬ জন জনবল দিয়ে চলছে অফিস কাজ। শূন্য পদ না থাকলেও বিশাল উপজেলা হওয়ায় পদ সংখ্যা সৃজন পূর্বক জনবল বৃদ্ধি করা দরকার। অপরদিকে দিন-রাত লিখে চলছেন, ৩৬ জন নকল নবিশ। নকল নবিশরা নিয়মিত বেতন প্রাপ্তির ও বেতন বৃদ্ধির দাবী দির্ঘদিন করে আসছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, একাদিকবার জরাজীর্ণ দশা ও নতুন ভবনের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চলমান পক্রিয়ার অংশ হিসাবে আমি ও আমার আগের কর্মকর্তারা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত নতুন ভবনের বরাদ্দ আসেনি। শুধু তাই নয়, চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগকে জীর্ণ দশায় অফিস কার্যক্রম চালানো ঝুঁকিতে লিখিতভাবে জানানোর পরও পরিত্যক্ত ঘোষণা দূরের কথা পরিদর্শনেও আসেনি কেউ।
ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

২৬ অক্টোবর, ২০২১।