বলাখাল জে.এন উবির শিক্ষার্থীদের সোয়া দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে জনদুর্ভোগ

ভূমি দখলের অভিযোগ ও শিক্ষক লাঞ্ছিত করায়



মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বলাখাল জেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমি জোরপূর্বক দখলে রাখা এবং বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সোয়া দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার সকালে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বলাখাল বাজারে এই সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে করে ছোট-বড় কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীসহ পথচারীদের।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এরপর দখলে রাখা ভূমির উপরে থাকা দোকান সিলগালাসহ তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস পেয়ে সড়ক থেকে সরে যায় শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন টিনশেড বিল্ডিংটি ২০০৫ সালে লিখিত চুক্তিনামায় ভাড়া নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল খায়ের মজুমদার। এরপর ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবাধি পর্যন্ত ভাড়ার টাকা পরিশোধ করছেন না তিনি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের বরাদ্দ দেয় সরকার।
ওই ভবন নির্মাণের জন্য স্কুলের পুরাতন দোতলা ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং টিনশেড দোকানঘরটি ছেড়ে দেয়ার জন্য ভাড়াটিয়া আবুল খায়ের মজুমদারকে বার-বার চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি পাওনা ভাড়াকৃত টাকা পরিশোধ না করে জোরপূর্বক স্কুলের টিনশেড ভবনটি দখল করে আছেন। যার ফলে একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজটি ফেরত যাওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন, পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বরাবর প্রেরণ করা হয়।
এ পর্যন্ত বিষয়টি সমাধানে না আসায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রোববার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু মানববন্ধন প্রস্তুতি শুরুতেই বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের গায়ে হাত তোলেন বিল্লাল হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক। এতে করে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
এরপর তারা (শিক্ষার্থীরা) উত্তেজিত হয়ে মানববন্ধনের পরিবর্তে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে এবং শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার বিচার দাবি করে শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তাদের সাথে যোগ দেয় শিক্ষকসহ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) সেলিমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যায়নি।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) আফজাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ অবরোধস্থলে হাজির হন। এ সময় তারা অবরোধকারীদের সাথে কথা বলে অবৈধ দখলকারীকে তিনদিনের মধ্যে উচ্ছেদ ও শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী বিল্লালকে আইনের আওতায় আনার আশ^াস দিলে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা পর সড়ক থেকে সরে যায় শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের মজুমদার বলেন, ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মাসিক ১২শ’ টাকা ভাড়ায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মালিকানাধীন টিনশেড ভবনটি ভাড়া নেন আবুল খায়ের মজুমদার। এরপর তিনি ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে ভাড়া পরিশোধ করছেন না।
যার ফলে ২০১৫ সালের ১৪ জুন ভাড়া পরিশোধ করে দোকানঘরটি ছেড়ে দেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হলে তৎকালীন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুর্শিদুল ইসলামের কাছে ৬ মাসের সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেন ভাড়াটিয়া আবুল খায়ের মজুমদার। এরপরও তিনি এ পর্যন্ত দোকানঘরটি ছাড়েননি। এ বিষয়ে বার-বার তাকে নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানান।
ভাড়াটিয়া আবুল খায়ের মজুমদারের ছেলে তসলিম আলম শিশির মজুমদার বলেন, ব্যবসার কাজে অনেকদিন ধরে বিদ্যালয়ের দু’টি কক্ষে ভাড়ায় ছিলেন তার বাবা। পরবর্তীতে বিদ্যালয় থেকে ওই দুটি কক্ষ ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হলে, আমরা তা ছেড়ে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে সিএন্ডবির সম্পত্তিতে টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করে, আমার বাবা ব্যবসা করছেন। এখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে এই টিনশেড ঘরটি দখল করতে চাচ্ছে। কিন্তু টিনশেড দোকানঘরটি সিএন্ডবির সম্পতিতে। যা সিএন্ডবি কর্তৃক সিমানা পিলার দেয়া আছে। তাছাড়া সিএন্ডবি’র ভূমিতে আমি একা নই, আরো লোকজনের ব্যবসা করছে। সিএন্ডবি চাইলে সবার মতো, আমিও সিএন্ডবির ভূমি ছেড়ে দিবো। কিন্তু আমাদের এই ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া জানান, আগামি তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি স্থায়ী সমাধানের আশ^াস দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।