মতলবের জনতা উবি’র ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

বিদ্যালয়ের সভাপতিই ঠিকাদার!



স্টাফ রিপোর্টার
মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ইউসুফ পাটওয়ারী। বিদ্যালয় কাম নতুন সাইক্লোন সেন্টার ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারও তিনি। ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিণাধীন ৩ তলা ভবনের ফাউন্ডেশন কাজে নিম্নমানের পাথর দিয়ে করা হয়েছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। কাজের মান ও পাথর ঠিক আছে বলে দাবি করেন ইউসুফ পাটওয়ারী। এ নিয়ে এলাকায় এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ পাটওয়ারী। তিনি অধিকাংশ সময়ই থাকেন ঢাকায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের নির্মাণ কাজটিও তিনি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশনের কাজ শেষ হয়েছে। কাজের সময় নিযুক্ত প্রকৌশলীকে বেশ কয়েকবার মৌখিক অভিযোগ করেছেন স্থানীরা। কিন্তু তিনি কোন সঠিক জবাব না দিয়ে ঠিকাদারের সাথে কথা বলতে বলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যালয় এই ভবনটি বরাদ্দ আনার জন্য আমাদের অনেকেরই প্রচেষ্টা ছিলো। কিন্তু যারা নির্মাণ কাজ করেন এবং বুঝেন তারা বলছেন ফাউন্ডেশনের কাজে ব্যবহৃত পাথরগুলো মরা এবং মান ঠিক নয়। এই নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। আমরা চাই কাজটি যেন সঠিকভাবে করা হয় এবং সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম রাজা বলেন, নির্মাণ কাজ সম্পর্কে আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই। যেহেতু আমাদের সভাপতিই নির্মাণ কাজ করছেন, অবশ্যই কাজের মান ভাল হবে। কাজ দেখার জন্য মতলব, চাঁদপুর ও ঢাকা থেকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের লোকজন একাধিকবার এসেছেন।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আওরঙ্গজেব বলেন, উপজেলায় অনেক কাজ হয়। সবগুলোত আমার দেখা সম্ভব হয় না। ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজ দেখার জন্য আমাদের সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম রয়েছেন। তিনি কাজটি কয়েকবার দেখেছেন। ফাউন্ডেশনের কাজে যে কোন মানের পাথর হলেই চলে। তবে উপরের কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেটিই দেখার বিষয়। তবে তিনি কাজটি কত টাকা ব্যয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয় করছে তিনি তা জানেন না।
ঠিকাদার ইউসুফ পাটওয়ারী বলেন, বিদ্যালয় ভবন কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ ব্যয় ৩ কোটি ২০ লাখ। মোট নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফাউন্ডেশন কাজে যে কোন পাথর দিয়েই করা যায়। কেউ যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে আমার সাথে কথা বলতে বলেন। তাছাড়া কাজটি দেখার জন্য সরকারি লোক আছে। কে কি বললো, সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।
চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর চাঁদপুর জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী স্বপন কুমার সাহা বলেন, সরকারি প্রত্যেকটি দপ্তরের প্রকৌশল বিভাগের কাজের নিদের্শনা থাকে। একটি ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত একই মান বজায় রাখতে হয়। ভবনের প্রত্যেকটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ। ফাউন্ডেশন করার ক্ষেত্রে আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। এক্ষেত্রে নিম্নমানের কোন সামগ্রী ব্যবহারের প্রশ্নেই আসে না। আমরা প্রত্যেকটি কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে পাথর, সিমেন্ট ইত্যাদি পরীক্ষা করে থাকি।