বিজয় দিবস উপলক্ষে পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

যুদ্ধ করে কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, জাতি কি পেলো তা জানতে চাই……….মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক

এস এম সোহেল
মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) পুলিশ লাইন্স দরবার হলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কোন কিছু পাওয়ার আশায় আমরা যুদ্ধ করিনি। দেশের পরিস্থিতি এরকম হয়েছিলো দেশকে রক্ষা করতে আমরা যুদ্ধ যেতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের নিয়ে আমাদের দেশ ও সন্তানরা আমাদের নিয়ে গর্ববোধ করে, এটাই আমাদের পাওয়া। আমাদের মধ্যে দেশ ও সংস্কৃতির চেতনা ছিলো। আমরা কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু এ জাতি কি পেলো, তা জানতে চাই জাতির কাছে।
তিনি আরো বলেন, আমাকে অস্ট্রিয়ায় একটি প্রোগ্রামে বলা হলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে। তারা ইতিহাস শুনে বললো, তোমার কাহিনী নিয়ে একটি সিনেমা করা যায়। আমি তাদের বলেছিলাম- প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাদের কাহিনী নিয়ে সিনেমা করা যায়।
তিনি যুদ্ধের ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ট্রেনিংয়ে আমাদের অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। একদিন খবর এলো নৌ কমান্ডো ট্রেনিং করা হবে। আমাদের ৮ জন সিলেক্ট করা হলো। আমাদের মুর্শিদাবাদ নিয়ে গেলো। দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সাঁতার শিখতে হতো। রাতেও সাঁতার শিখতে হতো। ট্রেনিং শেষে আমরা চাঁদপুর আসলাম যুদ্ধ করতে। যুদ্ধের জন্য আমাদের মাইন্ড দেওয়া হলো। আমাদের ক্যাম্পে কাউকে এলাউ করা হতো না। শুধুমাত্র একবার ওসমানি সাহেব এসেছিলো। আমাদের শপথ করানো হলো আমাদের মৃত্যুর জন্য আমরাই দাই। আর সহকর্মীরা আহত হলে উদ্ধার করে আনতে পারলে আনবা, না আনতে পারলে তাকে মেরে ফেলতে হবে। কারণ সে ধরা পড়লে তথ্য বলে দিতে পারে। আমাদের স্রোতের প্রতিকূলে যুদ্ধ করতে হতো। একটি জাহাজে ৩টি করে মাইন্ড লাগাতে হতো। ৩০ আক্টোবর লন্ডন ঘাটে জাহাজ দেখে গেয়েছিলাম। ক্যাম্পে গিয়ে লন্ডন ঘাটে জাহাজের বিষয় বললাম। রাতেই এসে মাইন্ড লাগানোর পর ৩ মিনিটের পর বাস্ট হয়েছিলো। হামলাকারী এবং জাহাজ ডুবে পাক-হানাদাররা মারা যায়।
পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. সফিকুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিলন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াছির আরাফাতের পরিচালনায় পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহালম বকাউল, শাহরাস্তি থানার অবসরপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর মো. আমির হোসেন, ফরিদগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল জহুরল হক ভূঁইয়া, মতলব উত্তরের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল মো. তোফাজ্জল হোসেন।
জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে ১,২৬২ জন গর্বিত পুলিশ সদস্য জীবন দিয়েছে। মহামারী করোনাকালীন ১০৬ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেন। নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ৬৩ জন পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন জামে মসজিদের পেশ ইমাম আব্দুল সালাম ও গীতা থেকে পাঠ করেন পুলিশ লাইনসের পার্শ্বনাথ দাস।

১৮ ডিসেম্বর, ২০২২।