বিদায় মেয়র নাছির!

ইলশেপাড় রিপোর্ট

আজ ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।  ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচিত হবেন নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দ। আর বিদায় ঘণ্টা বাজবে বহুল আলোচিত রাজনৈতিক নেতা, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের। সাথে থাকবে তার গত দেড় দশকের সফলতা আর ব্যর্থতার নানা গল্প। গেল ১৫ বছরে চাঁদপুর পৌরসভার দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব পালন শেষে অনেকটাই হতাশা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন এই পৌর মেয়র।

মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ নিজকে ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে জেলার রাজনীতিতে নিজকে পরিচিত করেই দলীয় টিকেটে ২০০৬ সালের পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়ে ২০০৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার দায়িত্বগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেশের সব পৌর চেয়ারম্যানদের পদবি পরিবর্তন করে মেয়র করলে তিনি চাঁদপুর পৌরসভার প্রথম মেয়র হিসেবে ধারাবাহিক দায়িত্ব পান ২০০৮ সালের ১৪ মে।

অবশেষে আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌরসভার সাধারণ ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ কেবল নির্বাচিত নতুন মেয়রের শপথগ্রহণের মাধ্যমে তার চলমান দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিবেন। তবে তার এ বিদায় রেকর্ড হয়ে থাকবে চাঁদপুর পৌরসভার ইতিহাসে। তিনি টানা ১৫ বছর পৌরসভা কর্ণধারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ রাজনীতিতে অনেকটাই সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে চাউর আছে জেলার রাজনীতি মহলে। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ২০১৬ সালে। বর্তমানে তিনি সে পদেও বহাল আছেন। পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দু’টি পদের গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকটাই ব্যস্ত সময় পার করতে হয় তাঁকে।

এদিকে টানা ১৫ বছরের ধারাবাহিক পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালনে তিনি সক্ষম হয়েছেন অনেকটাই ভাগ্য সহায়তা নিয়ে। বিএনপি শাসনামলে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুযোগে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ৫ বছর পরে তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে তিনি রাজনৈতিক ফায়দা গ্রহণ করেন। ফলে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনের ফের তফসিল ঘোষণা হলে তিনি রাজনৈতিক সুবিধা ও কথিত সুশীলদের ম্যানেজ করে উচ্চ আদালতের আদেশে নিবার্চন স্থগিত করতে সক্ষম হন। ফলে পুনরায় আরো এক মেয়াদের দায়িত্ব পালন করেন নির্বাচন ছাড়াই।

২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় টিকেটে মেয়র পদে নির্বাচিত হন। তবে মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ তার ১৫ বছরের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে পুরো পৌরসভায় গড়ে তুলেন বিশেষ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটই নিয়ন্ত্রণ করতো পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সব কর্মকান্ড। যার ফলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যে পরিমাণ অগ্রগতির কথা ছিলো চাঁদপুর পৌরসভার তা অনেকটাই মলিন হয়ে যায়।

পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটটি নিজদের আখের গুছিয়ে নিতে সক্ষম হলেও রাজনীতিবিদ হিসেবে মেয়র নাছির উদ্দিনের ইমেজকে কালিমালিপ্ত করে দেয়। ফলে তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী পদে থেকেও অনেকটাই ছিটকে পড়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে জেলার রাজনীতিতে মেয়র নাছিরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যে সীমিত হয়ে আসবে তা এখন সর্বমহলেই চাউর হচ্ছে।

তবে চলমান পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী ইতোমধ্যে ঘোষণা করছে নির্বাচিত হলে তিনি পৌরসভার ঐ সিন্ডিকেটটি ভেঙে দিবেন। কিন্তু বিধিবাম রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কথিত সুশীলরা মেয়র নাছিরের রাজনীতিক ক্যারিয়ারকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শেষ করে দিয়েছে, সেই সিন্ডিকেটটিই বর্তমান আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়গান গাইছে। ফলে নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে জিল্লুর রহমান জুয়েল কতটা সফল হবেন তা সময়ই বলে দেবে।

১০ অক্টোবর, ২০২০।