
ইল্শেপাড় রিপোর্ট
অনেক ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, চড়াই-উৎরাই, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আনন্দ-বেদনার পর আজ শুরু হতে যাচ্ছে নতুন বছর ২০২০। গতকাল ৩১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার রাতে বিদায় নিলো খ্রিস্টিয় একটি বছর।
আজ ১লা জানুয়ারি, ২০২০ সালের প্রথম দিন। প্রতিবারের মতো এবারও নতুন সূর্যালোকে নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে শুরু হলো নতুন বছরের যাত্রা। বিদায় নিলো ২০১৯ সাল। যে বছরের খেরোখাতায় চোখ বোলালেই বয়ে যায় আনন্দ-বেদনার স্রোত। হয়ত স্মৃতি সতত সুখের নয়। হিসেবের খেরোখাতায় জমে আছে অনেক বিয়োগ-ব্যথা, হারানোর কান্না, নানা গ্লানি আর মালিন্যের দাগ। বছরজুড়ে অপ্রত্যাশিত নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় আমাদের মন ভীষণ ভারাক্রান্ত, তবু নিরাশার গভীর থেকে ফুটে ওঠে বিপুল আশার আলো, ধ্বংসস্তূপ থেকে ফোটে নবতর জীবনের ফুল।
আমরা আবারও মেতে উঠি সৃষ্টিসুখের উল্লাসে, বৈরী সময়কে মাড়িয়ে এসে গেয়ে উঠি জীবনের জয়গান। গতকাল মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর গোধূলির পর খ্রিস্টীয় ২০১৯ বর্ষের শেষ সূর্য ডুবে। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পেরিয়ে গণনা শুরু হয় নতুন খ্রিস্টীয় বছর ২০২০-এর।
অনেকেই হিসাব-নিকাশ করবেন, কেমন গেল বছরটি। ব্যক্তিগতভাবে একেকজন একেক মত দিলেও জাতীয় জীবনে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০১৯ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নানা ক্ষেত্রে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে পুরো জাতি। এসেছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও। অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও চেষ্টা ছিল এগিয়ে যাওয়ার। পেছনের পুরো বছরের দিকে তাকালে ইতিবাচক ও নেতিবাচক অনেক ঘটনাই সামনে ভেসে উঠবে।
এ বছরও সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে প্রমত্তা নদীর বুকে পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞ চলছে নিজস্ব অর্থায়নে। নির্মাণযজ্ঞ শুরু হয়েছে রাজধানীতে মেট্রোরেলের। দেশের ইতিহাসে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সরকারের দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশ পেয়েছে বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি।
তাই বিদায়ী বছরে কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে বলা যায়, আশা-নিরাশার, আনন্দ-বেদনার দোলাচলে যথেষ্ট বাঙময় ’১৯। নতুন বছর ২০২০ সালের অনেক প্রত্যাশার বীজও বুনে গেছে বিদায়ী ’১৯।
বিশ্বব্যাপী পালিত উৎসবগুলোর মধ্যে প্রাচীন হিসেবে মনে করা হয় এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইরাকের প্রাচীন নাম ছিল মেসোপটেমীয়া। এ মেসোপটেমীয় সভ্যতার ৪টি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসোরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতা। সেই সময় বেশ ঝাক-জমকপূর্ণভাবে এই বর্ষবরণ উৎসব পালন করা হত। ১ জানুয়ারি তা পালন করা হতো না বরং তা পালিত হতো বষন্তের প্রথম দিনে। শীতের রুক্ষতা জেড়ে প্রকৃতি আবার নতুন করে সাজতে শুরু করতো বসন্তে। প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে উঠাকেই নতুন বছরের শুরু হিসেবে পালন করা হোত ব্যাবিলনীয়রা। বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠা শুরু হতো নতুন বছর আর বর্ষবরণ উৎসব। ইংরেজি নববর্ষ সমস্যার সমাধান করেন অ্যালোসিয়ার্স লিলিয়াস একজন ডাক্তার। তৈরি করেছিলেন নতুন আরেকটি ক্যালেন্ডার। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে ভ্যাটকানের ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরি জুলিয়ান ক্যালেন্ডারকে বাতিল ঘোষণা করে প্রচলন করেন গ্রেগরিয়ান কালেন্ডারটি। যেসব দেশ এই ক্যালেন্ডার গ্রহণ করেছে তারা সবাই পহেলা জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ পালন করে থাকে। ইতিহাস অনুযায়ী স্কটল্যান্ড ১৬০০ সাল থেকে, ইংল্যান্ড ১৭৫২ সাল থেকে, আয়ারল্যান্ড এবং ব্রিটিশ নববর্ষের রীতি অনুসরণ শুরু করে। ১৭০০ সালে রাশিয়া এই রীতি অনুসরণ করতে শুরু করে।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্য রাতের প্রথম প্রহরে দীপ্ত আশায় উদ্ভাসিত হয়ে আসলো নতুন বছর ২০২০। ২০১৯ সালের অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলো এদেশের মানুষ। গতকাল বছরের শেষ দিন প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে রক্তিম সূর্য পশ্চিম দিগন্তে অস্তমিত হয়ে নতুন বছরটিও শুরু হলো। তারপরও সবাই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের বারোটি পুরাতন পাতাকে বিদায় জানিয়ে আজ থেকে নতুন বছরকে বরণ করবে।
