ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের ৬ জন নিহত, আহত ১০

স্ব-স্ব উপজেলায় নিহতদের দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ নামক স্থানে দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১৬ যাত্রী। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরের ১ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ ও হাইমচর উপজেলার ৩ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় চাঁদপুর সদরের একই পরিবারের ৭ জনসহ আহত হয়েছেন ১০ জন।
গত মঙ্গলবার রাত ২টা ৫৬ মিনিটে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা-নিশীথা ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ির মৃত আব্দুুল জলিলের ছেলে মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২), সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রামের বিল্লাল বেপারীর মেয়ে ফারজানা আক্তার (২০), হাইমচর উপজেলার তিকশিকান্দির জাহাঙ্গীর হোসেন স্ত্রী আমাতন বেগম (৩৫), মেয়ে মরিয়ম (৫), বোনের ছেলে মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী বেগম (৩৫)।
আহতরা হলেন- নিহত ফারজানার মা বেবী বেগম (৪০), ভাই হাসান বেপারী (২৮), নানী ফিরোজা বেগম (৭০), ফারজানার মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাতো বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) ও মামতো ভাই জুবায়ের (৩)।
অন্য আহতরা হলেন- হাইমচরের জাহাঙ্গীর হোসেন, বোন রাহিমা ও শিশু মাহিমা। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বোন রাহিমা ও শিশু মাহিমা ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত মজিবুর রহমান ও কুলসুমার মরদেহ রাতে হাজীগঞ্জ রাজারগাঁও আনা হবে। নিজ বাড়িতে তাদের দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া গ্রামের ফারজানার মরদেহ সকাল ১০টায় বাড়িতে আনা হয়। পরে আইনী প্রক্রিয়া শেষে তাকে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, সিলেটে শাহ জালালের (র.) মাজার জিয়ারত করে উদয়ন ট্রেনে ফিরছিলেন হাইমচরের তিকশিকান্দির জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার পরিবার। ছিলেন দশ নম্বর স্থানে থাকা বগিতে। কিন্তু দানব হয়ে এসে তূর্ণা-নিশীথা ট্রেন কেড়ে নেয় তার সুখের সংসার। নিহত হন স্ত্রী আমাতন বেগম, পাঁচ বছরের মেয়ে মরিয়ম আর ভাগিনার স্ত্রী কাকলী বেগম। আহন হন জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাগিনার শিশু সন্তান মাহিমা এবং বোন রাহিমা বেগম। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত অবস্থায় কাঁতরাচ্ছেন জাহাঙ্গীর।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তিনি চেতনা ফিরে পেলে পরিবার-পরিজনের খবর জানতে চান নার্সদের কাছে। কিন্তু নার্সরা তাকে পরিবারের খবর জানাননি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাহাঙ্গীরের পরিবারের নিহত তিন জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিছুক্ষণের জন্য আনেন তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু জাহাঙ্গীরের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে তাকে তাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। পরে তিনজনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হাইমচরে।
জানা গেছে, হাইমচরের তিকশিকান্দির হাসিম আলীর জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), তার স্ত্রী আমাতন বেগম (৩৫), মেয়ে মরিয়ম (৫), বোন রাহিমা বেগম (৪৫), বোনের ছেলে মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী বেগম ও তার শিশু কন্যা মাহিমাকে নিয়ে ৬ নভেম্বর সিলেট যান। সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত শেষে তারা সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ফিরছিলেন। ছিলেন পেছনের দিকের বগিতে। দুর্ঘটনায় নিহত হন জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী আমাতন বেগম (৩৫), মেয়ে মরিয়ম (৫), বোনের ছেলে মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী বেগম। আহত বোন রাহিমা ও শিশু মাহিমা ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত জাহাঙ্গীরের ভাই আবু তাহের জানান, আমার ভাই জাহাঙ্গীর তার ১ ছেলে ও এক মেয়েকে বাড়িতে রেখে বাকি সাবাইকে নিয়ে সিলেট মাজার জিয়ারতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। সেখানে ভাইয়ের বউ, মেয়ে এবং মেয়ের ঘরের নাতিনসহ তারা ৩ জন নিহত হন। নিহতদের গতকাল বুধবার দাফন করা হয়েছে। ভাই জাহাঙ্গীরসহ তারা ৩ জন কুমিল্লা মেডিকেল এবং ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের জন প্রতি ২৫ হাজার, আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে আমরা পেয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিল মাতাব্বর জানান, আমার ওয়ার্ডের একই পরিবারের ৬ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছে। ৩ জন আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা ও কুমিল্লা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় আমরা শোকাহত ও মর্মাহত। চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা রয়েছেন তাদের চিকিৎসা করে সুস্থ করার জন্য আমরা এলাকাবাসী তাদের পাশে আছি। আমার সর্বক্ষণ ঐ পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ রেখেছি।
নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরদার জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত-আহতের ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত। ঐ ট্রেন দুর্ঘটনায় আমার ইউনিয়নের একই পরিবারের ৩ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। এতে আমিসহ পুরো ইউনিয়নবাসী আজ মর্মাহত। জাহাঙ্গীর কৃষক পরিবারের লোক। আমি বিগত দিনে জাহাঙ্গীরের পাশে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো, ইনশাআল্লাহ।