বড়কুল পূর্ব ১নং ওয়ার্ড আ.লীগের কমিটির নেতৃত্ব অনুপ্রবেশকারীদের হাতে!


নিজস্ব প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অনুপ্রবেশকারীদের হাতে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। যার ফলে কমিটি থেকে, এমনকি কাউন্সিলের (ওয়ার্ড সম্মেলন) আগে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রকৃত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের কাউন্সিলর করা হয়নি।
জানা গেছে, বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর নোয়াদ্দা, উত্তর রায়চোঁ এবং উত্তর বড়কুল। এই তিন গ্রাম নিয়ে গঠিত ১নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়ে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সভাপতি সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কালু কন্ট্রাকটর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। যদিও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি সেলিম ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং সাধারণ সম্পাদক কালু কন্ট্রাকটর গত ইউপি নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বতুর পক্ষে সরাসরি কাজ করেছেন।
এছাড়া কালু কন্ট্রাকটর ধানের শীষের প্রার্থী বতুর নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী ব্যয়ভার বহন করেছেন। তিনি সরাসরি বিএনপির রাজনীতি করেছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, এ ওয়ার্ডে যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের কোন মূল্যায়ন নেই। অথচ এক সময় যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে, তারাই আজ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারক।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা তকদিল হোসেন বলেন, আমাকে কাউন্সিলর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরার মত লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি, অথচ সু-সময়ে আমাদের বাদ দিয়ে কাউন্সিল তালিকা তৈরি করে সম্মেলন করা হয়েছে।
অনুপ্রবেশকারীদের হাতে নেতৃত্ব উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অতীত ইতিহাস বা এলাকার জনসাধারণের সাথে কথা বললেই, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোন দল করেছে, তা জানতে পারবেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মো. হানিফ বেপারি বলেন, এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলে যারা ভোট দিয়েছে তাদের অধিকাংশই লেখা পড়া জানেনা। সম্মেলনের সময় ব্যালটে নাম লিখতে না পারায়, দু’জনকে নাম লিখে দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের কাছে কাউন্সিলররা একজনের নাম বললে আরেকজনের নাম লিখে দিয়ে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পাস করিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।