বড়স্টেশন মোলহেডে রেলওয়ের অর্থায়নেই বিনোদনের জন্য স্থাপনা করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম ও ঢাকার দায়িত্বরত মহা-ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের তালিকাভুক্ত সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। চাঁদপুর-লাকসাম রেলওয়ের যেখানে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তার তালিকা আমাদের কাছে আছে। এ বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। ওইসব স্থানে রেলওয়ের নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। একই সাথে এসব অঞ্চলে যেসব রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে তাদের থাকার জন্যও ব্যবস্থা করা হবে। খুব শীঘ্রই এ পথে ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুর থেকে বিকলে পর্যন্ত রেলওয়ে এলাকা ঘুরে ঘুরে রেলওয়ে চাঁদপুর স্টেশনের আশপাশে অবৈধ স্থাপনা ও প্লাটফর্ম উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে আসলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর বড়স্টেশন মোলহেডে রেলের কাজ চলমান রয়েছে। অনেকেই বলছে বড়স্টেশন মোলহেডে রেললাইন নির্মাণ করা হলে টিকবে না, কথাটি সঠিক নয়। আমাদের রেলেও ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এখানে রেললাইন করা যাবে। আর এখানে রেলওয়ে স্টেশন হলে চাঁদপুরবাসী উপকৃত হবে। বড়স্টেশন এলাকায় রেললাইন ছিলো, থাকবে। আমি আশা করি চাঁদপুরবাসী রেলের উন্নয়ন কাজে আমাদের সহযোগিতা করবে। চাঁদপুরে ট্রেন থেমে থাকা শেষ প্রান্তের বাফার ভেঙে ফেলা ঠিক হয়নি।
মোলহেড এলাকায় জেলা প্রশাসন আমাদের অনুমতি ছাড়া যে কাজ করছে তা’ করা তাদের ঠিক হয়নি। এ জায়গা জেলা প্রশাসনকে রেলওয়ে কোনদিন দিবে না। এখানে তারা যে পর্যটন কেন্দ্র করতে চাচ্ছে তা’ তাদের করার কোন প্রয়োজন নাই। এই জায়গা রেলওয়ের, এখানে রেলওয়ে প্রয়োজনে নিজেদের অর্থায়নে বিনোদনের জন্য ও বসার জন্য স্থাপনা করে দিবে। এখানে কাউকে অবৈধ পন্থায় নিজেদের ইচ্ছামত রেলওয়ের জায়গায় ব্যবহার করে পর্যটনের নামে বাণিজ্য করতে সুযোগ দিবে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
তিনি চাঁদপুর স্টেশন সংলগ্ন মোলহেড (তিন নদীর মোহনা) এলাকার পরিকল্পনাধীন উন্নয়ন কাজ সম্পর্কে বলেন, এখানে আমাদের উন্নয়ন কাজগুলো নিজস্ব প্রকৌশলীর মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে করা হচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি সেখানে রেললাইন স্থাপন করলে টিকবে না। মেঘনার ভাঙন ঝুঁকি রয়েছে। এটি সঠিক নয়। এখানে আগেও রেললাইন ছিলো, এখনো থাকবে। রেলের উন্নয়ন চাঁদপুরবাসীর জন্যই দরকার। আশা করি রেলওয়ের উন্নয়নকাজে চাঁদপুরবাসী সহযোগিতা করবেন।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক রেলওয়ের সম্পত্তিতে বিনোদন কেন্দ্র ও সড়ক নির্মাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, রেলওয়ের সম্পত্তিতে পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য অবশ্যই আলাপ করা দরকার ছিলো। আমি দেখেছি এখানে রাস্তা ও অবৈধ দোকান করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি ও অবৈধভাবে করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের এটা করা উচিৎ হয়নি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী সুভক্তগীন ও চীফ অপারেশন সুপারেন্টেডেন্ট এএম সালাহ উদ্দিন, কুমিল্লার সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোরছালীন রহমান, এসএসএএই (ওয়ে) লাকসাম মো. লিয়াকত আলী মজুমদার, এসএসএই (পূর্ত) আতিকুর রহমান আখন্দ ও চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার মো. শোয়েব শিকদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে রেলওয়ের উন্নয়ন বিষয়ে কথা বলার জন্য মহাব্যবস্থাপকের সাথে রেলওয়ে অফিসার্স রেস্ট হাউজে সাক্ষাত করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ।
সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়, চাঁদপুর রেলওয়ের উন্নয়ন ও চাঁদপুরকে সুন্দর করতে চট্টগ্রামে মহা-ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কার্যালয়ে আলোচনার জন্য বসা হবে। সেখানে বসে সবার মতামতের ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া চাঁদপুর পৌর মেয়র যেভাবে চাঁদপুর রেলওয়ের উন্নয়ন চান সে বিষয়ে তিনি একটি দিকনির্দেশনামূলক প্রস্তাবনার চিত্র তৈরী করে নেওয়ার জন্য বলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম ও ঢাকার দায়িত্বরত মহা-ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
সবশেষ মহা-ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বড়স্টেশন মোলহেড এলাকায় রক্তধারার কাছাকাছি ও বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন। তখন তার সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তারা।

৩০ জুন, ২০২১।