স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে তৎপর থাকার পরেও শহরে অটোরিকশা, অটোবাইক ও সিএনজি চালক এবং যাত্রীরা মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি দূরে থাক, মানুষের মাস্ক পরতেও অনীহা। অনেকের সঙ্গে মাস্ক থাকলেও তা রেখেছেন পকেটে বা মুখের নিচে থুতনিতে। অধিকাংশের কাছে মাস্কও নেই। সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের তীব্রতাও জনগণের মধ্যে প্রভাব ফেলেনি।
জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং মাস্ক না পরার অপরাধে জরিমানা করার পরও সচেতন হচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) সকালে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, অটোবাইক, অটোরিকশা ও সিএনজি বেশির ভাগ ড্রাইভারসহ যাত্রীদের মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা দূরে থাক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকসা, অটোবাইক, সিএনজিতে গাদাগাদি করেও যেতে দেখা যায়।
মাস্ক কোথায় জানতে চাইলে অটোবাইক চালক মামুন বলেন, তড়িঘড়ি করে যাত্রী নিয়ে চলে এসেছি মাস্ক আনতে ভুলে গেছেন।
অটোবাইকের যাত্রী বিল্লাল ও আক্কাস বলেন, বাজারে যাচ্ছি। কেউ মাস্ক পরে না তাই আমরাও পরি না। করোনাভাইরাস আমাদের কিছু করতে পারবে না।
সিএনজি চালক মালেক হোসেনকে মাস্কের কথা জিজ্ঞাসা করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তিনি। মাস্ক পরে বড় লোকেরা। তাদের জীবনের ভয় বেশি। আমাদের মাস্ক পরা লাগে না।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মোহাম্মদ উজ্জ্বল বলেন, সংসারের প্রয়োজনে হাট-বাজারে যেতে হয়। নিজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে বের হলেও বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার না করায় ঝুঁকি থেকেই যায়।
চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের টিআই জহিরুল ইসলাম জানান, মানুষ যাতে বিধিনিষেধ মেনে চলে সেজন্য শহরের ৪টি স্থানে পুলিশ ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের দু’টি মোবাইল টিম শহর প্রদক্ষিণ করছে। কেউ যাতে ট্রাফিক আইন ভঙ না করে জেন্য আমরা সজাগ রয়েছি।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় বলেন, সোমবার (২৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে ৩ দিনের জন্য বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ থাকবে। সকাল থেকে আমি শহর ঘুরেছি। কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি। গণপরিবহন ও মার্কেট প্রায় বন্ধ থাকলেও মানুষ তো ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করেনি। প্রয়োজন ছাড়াও মানুষ বাইরে ঘুরছে। এতকিছু করার পরও লাভ হবে না, যদি সাধারণ মানুষ সচেতন না হয়। জনগণকে পুলিশের কাজে সহায়তা করতে হবে।
এদিকে চাঁদপুর জেলা করোনার উচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গত ২৮ জুন ১শ’ ৩৪ জনের করোনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার ৪২ জন শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৭.৭%।
চাঁদপুরে করোনায় আরও ৪২ শনাক্ত, শনাক্তের হার ৪৭.৭%
চাঁদপুর জেলায় আরও ৪২ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৪৯ জনে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার নতুন করে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২৪ জন, হাজীগঞ্জে ১০ জন, ফরিদগঞ্জে ৩ জন, হাইমচরে ৩ জন ও কচুয়ায় ২ জন রয়েছেন। শনাক্তের হার ৪৭.৭%।
সিভিল সার্জন ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, মঙ্গলবার জেলায় ৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রাতে প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ৪২ জনের করোনা পজিটিভ।
দেশে যে জেলাগুলো করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে চাঁদপুর তার একটি। এ জেলায় আক্রান্তের হার ৪৭.৭%। এর প্রধান কারণ হলো চাঁদপুর জেলার সাথে নৌ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ রয়েছে সব জেলার সাথে। তাই এ জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে অন্যতম বলে জানান সিভিল সার্জন।
৩০ জুন, ২০২১।
