
নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
‘আমার ভাইয়ের খবর নি লইয়া আইছেন, আমার ভাইয়ের খবর নি পাইছেন- ভাইও ভাই। আমার ভাইয়েরে আইন্না দেন। আমার ভাইয়ে ফিরা আইবো নি এই দেশে। ভাইরে কত কষ্ট কইরা লেখাপড়া করাইছি, আজকে লোন কইরা বিদেশে পাঠাইছি, টাকা ইনকাম করার জন্য, ভাইরে ভাই।’
সংবাদকর্মীদের দেখে এভাবেই কান্না করতে করতে মুর্ছা যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মতলব দক্ষিণের মোজাম্মেল হকের বড় বোন জোসনা বেগম। ‘আমার ভাইয়েরে যে লোকে হত্যা করছে আমি তার বিচার চাই। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার করবোনি সরকার’- এমন অনেক প্রশ্ন করে কান্না করছিলেন তিনি।
গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গেলে উগ্রবাদী খ্রিস্টানের বন্দুক হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয় মোজাম্মেল হক। পরে তাকে উদ্ধার করে ক্রাইস্টচার্চের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত (১৬ মার্চ) শনিবার সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন মোজাম্মেল হক।
সরজমিনে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের হুরমহিষা গ্রামের মৃত হাবিব উল্লাহ মিয়াজীর ছেলে মোজাম্মেল হক (৩০)। তিন ভাই, দুই বোনের মধ্যে মোজাম্মেল হক ছিলেন সবার ছোট।
২০০৪ সালে উপজেলার নারায়ণপুর পপুলার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। ঢাকার মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে মিরপুর মার্কস ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ড যান তিনি। লেখাপড়া শেষ করে আগামি রমজান মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল মোজাম্মেল হকের। কিন্তু সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না মোজাম্মেল হকের। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবার।
