মতলবে সংসারের অভাব মেটাতে না পেরে সন্তান বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার
মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের তৎপরতায় মায়ের কোল ফিরে পেল অবুঝ এক শিশু। এর আগে নেশাগ্রস্ত পিতা নেশার টাকা যোগাড় করতে না পেরে দেড় বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে বিক্রি করে দেন এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে। পরে বিক্রি হওয়া ওই শিশুর মা মতলব দক্ষিণ থানার জানালে তাৎক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধার পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ। পরে সোমবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।
জানা যায়, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাবুরপাড়া গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির বাসিন্দা ইমরান হোসেন। গত ৪ জুন সে তার স্ত্রীর কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে বের হয়ে যায়। পরে দেড় বছরের আব্দুল্লাহকে মাত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে নিঃসন্তান রুমা আক্তারের কাছে।
সন্তান না পেয়ে শিশুর হতদরিদ্র মা লামিয়া বেগম মতলব দক্ষিণ থানায় এসে তার সন্তানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশকে জানায়।
পরবর্তীতে থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন মিয়ার নির্দেশে এসআই রুহুল আমিন অভিযান চালিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার চর লক্ষীপুর গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।
জানা যায়, শিশুটির বাবা একজন নেশাগ্রস্ত মানুষ। সে তার নেশার টাকা যোগাড় করতে না পেরে অবুঝ শিশুটিকে বিক্রি করে দেয়। যদিও এই ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী-সন্তানের তেমন খোঁজ-খবর রাখেন না। তাই লামিয়া বেগম ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান বলে জানা গেছে। তার আব্দুল্লাহ ছাড়াও ৬ মাস বয়সি এক মেয়ে রয়েছে।
মতলব দক্ষিণ থানার এসআই রুহুল আমিন বলেন, মাদকসেবী ইমরান হোসেন মাদকের টাকা জোগাড় করতে তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করে দেয় নিঃসন্তান রুমা আক্তার দম্পতির কাছে।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, লামিয়া বেগম থানায় এসে আমাদের বিষয়টি জানান এবং সাথে সাথেই পুলিশ তার সন্তানকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান করে। পরে মতলব উত্তর উপজেলার চরলক্ষীপুর থেকে তার সন্তানকে উদ্ধার করা হয় এবং মায়ের কোলে শিশুকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
তিনি জানান, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা একেবারেই খারাপ। তাছাড়া ওই নারীর স্বামী তাদের ঠিক মতো খোঁজ খবর রাখে না বলে জানতে পেরেছি। যদিও এ ঘটনার পর থেকে ওই শিশুর বাবা পলাতক রয়েছে। তবে আমরা থানায় এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিশুর মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করি।

০৮ জুন, ২০২২।