মতলব আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে ১৫ দিনে ৩ সহস্রাধিক শিশু ভর্তি

রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ার কারণে

মাহফুজ মল্লিক
মতলবস্থ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে (আইসিডিডিআরবি) রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। শীতের তীব্রতা ও ঠান্ডাজনিত কারণে এ রোগীর বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ দিনে ৩ হাজারেরও বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ১৯০ জন শিশু। এ সংখ্যা ¯^াভাবিক সময়ের চেয়ে তিনগুণ বেশি। ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশু। গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ২০০ এর বেশি।
মতলব আইসিডিডিআর,বি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর (১৫ দিন) পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ১১৩ জন। এর মধ্যে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু ৩ হাজার জন এবং বাকি ১১৩ জনের বয়স ৫ বছর বয়সের বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি।
আইসিডিডিআর,বি’র তথ্যানুযায়ী আরো জানা গেছে, ৭ ডিসেম্বর ভর্তি হয়েছে ২০৩ জন, ৮ ডিসেম্বর ২১০ জন, ৯ ডিসেম্বর ২১৩ জন, ১০ ডিসেম্বর ২০৫ জন, ১১ ডিসেম্বর ২১৫ জন, ১২ ডিসেম্বর ২০৩ জন, ১৩ ডিসেম্বর ২১৫ জন, ১৬ ডিসেম্বর ২০১ জন, ১৭ ডিসেম্বর ২২৩, ১৮ ডিসেম্বর ২০৬ জন, ১৯ ডিসেম্বর ২০৪ জন, ২০ ডিসেম্বর ২০৫ জন, ২১ ডিসেম্বর ২০২ জন, ২২ ডিসেম্বর ২০৭ জন এবং ২৩ ডিসেম্বর ২০১ জন।
ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২শ’ ১২ জন, ফরিদগঞ্জের ১শ’ ৮২ জন, হাইমচরের ৩৬ জন, হাজীগঞ্জের ১শ’ ১২ জন, কচুয়ার ১শ’ ৩৩ জন, শাহ্রাস্তির ৮১ জন, মতলব উত্তর ও দক্ষিণের ২শ’ ২ জন, কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার ১শ’ ৬৮ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০ জন, বুরিচংয়ের ৫৫ জন, চান্দিনার ১৯৭ জন, চৌদ্দগ্রামের ২৯ জন, কুমিল্লা সদরের ৮০ জন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ১০৩ জন, দাউদকান্দির ১৪৬ জন, দেবিদ্বারের ১৫৭ জন, হোমনার ৩৯ জন, লাকসামের ১৭৬ জন, মেঘনার ৭ জন, মনোহরগঞ্জের ৬১ জন, মুরাদনগর ১৪২ জন, লাঙ্গলকোর্টের ৫৭ জন ও তিতাসের ৭৫ জন ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী, ল²ীপুর, শরীয়তপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলার শিশু ও বৃদ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত সোমবার আইসিডিডিআর,বি মতলব শাখায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। এছাড়া হাসপাতারের বারান্দায়ও ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা মহিবুর রহমানের মা সুমি আক্তার বলেন, আমার সন্তানটির ২ দিন আগে খুব খারাপ অবস্থায় ছিল, এখন সুস্থ।
কুমিল্লার বুরুড়া থেকে আসা সুমাইয়া আক্তারের মা ফারজানা বলেন, সোমবার সকালে আমার সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। ডাক্তারদের সঠিক পরামর্শে এখন অনেকটা সুস্থ।
আইসিডিডিআর,বি’র মতলব শাখার প্রধান ডা. ফজল খান বলেন, এ হাসপাতালে ৭০ জন ডায়রিয়া রোগীর আসন রয়েছে। বারান্দাসহ ২শ’ ৫০ জন রোগীর চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। গত কয়েকদিন যাবত শীতের তীব্রতার কারণে রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। প্রতিদিন গড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ২০০ এর বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে ৮০ শতাংশ রোগী। বাড়ি যাওয়ার আগে ডায়রিয়া রোগীর জন্য বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হয়।
আইসিডিডিআর,বি’র মতলব শাখার জ্যৈষ্ঠ চিকিৎসক ডা. চন্দ্রসেখর দাস বলেন, শীতের তীব্রতার বৃদ্ধির কারণে শিশুরাই রোটা ভাইরাস ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। দূষিত পানি পান ও ময়লা খাবার গ্রহণেই এ রোগে আক্রান্তের কারণ। জ্বর, পাতলা পায়খানা, বুমি এ রোগের লক্ষণ। শিশুদের ধারণক্ষমতা কম থাকার কারণেই রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আক্রান্ত হওয়া ছয় মাস বয়সের শিশুদের পরিমাণ মতো খাবার স্যালাইন এবং মায়ের বুকের দুধ খেতে দেয়া হচ্ছে। ৭ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের দেয়া হচ্ছে খাবার স্যালাইন, বুকের দুধ ও বেবীজিংক ট্যাবলেট। এছাড়া সুজি, খিচুড়ি, ভাত, চিড়ার পানি ও ভাতের মাড়সহ অন্য খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। শিশুদের ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বুমি হলে দ্রুত স্থানীয় ¯^াস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।