মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে কৃষকের স্বপ্ন। মাঠজুরে এখন শোভা পাচ্ছে শীতকালীন সবজির সমারহ। সবজি চাষে বদলে গেছে মাঠের দৃশ্যপট। চিরচেনা সবুজ দৃশ্য যে কোন মানুষের নজর কাড়ছে। কৃষকের পদধূলিতে ছোট চাঁরা বেড়ে উঠেছে। ধরছে ফসল। কৃষকের হাসির ঝিলিক প্রস্ফুটিত হচ্ছে মরিচের ডগায়। ধনে পাতার শুভাস ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে-বাতাসে। নীরবেই আলুর শরীর মোটা তাজা হচ্ছে মাটির নিচে।
ইট পাথরের শহর থেকে বেরুলেই দৃষ্টিতে পড়ে কৃষকের স্বপ্ন বোনা ফসলের মাঠ। প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাদের আদর-যত্নে গড়ে তোলা সবজি ক্ষেত দেখে। সকালে হালকা কুয়াশা ভেত করে আকাশের সূর্য উঠার আগেই কৃষরা হৃদয়ের টানে ছুটে আসেন জমিতে।
শরীরের সবটুকুু শক্তি আর মনের গভীর পোষা ভালোবাসার সিক্ত করে তুলেন কপি, টমেটো, কিংবা লাউ, সিমের গোড়া থেকে ডোগা পর্যন্ত। ক্ষেতে পানি দেওয়া আগাছা পরিস্কার কিটনাশক প্রয়োগ নিরানীসহ সজবি ক্ষেত পরির্চযায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
আবহাওয়া অনুকূল ও আধুনিক পদ্ধিতিতে শীতকালিন সবজির চাষাবাদ করায় ভাগ্যের পরিবর্তন গড়ে উঠেছে অনেক কৃষকের। ক্ষেতের সবজির পাশাপাশি অনেকেই বাড়ির আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছেন সবজি পল্লী।
এ বছর রোগ-বালাই কম হওয়ায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় হাজার হাজার কৃষক নতুন স্বপ্নে বিভোর। তারা ক্ষেতেই সবজি বিক্রি করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই সব সবজি।
উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জমিতে শীতকালিন সবজির চাষাবাদে ব্যস্ত চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের সবজি। এসবের মধ্যে লাউ, সিম, বরবটি, চালকুমড়া, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ঝিংগা, পালংশাক, লাল শাক, কমলি শাক, পুইশাক, ডাটা শাক, করলা, ধনিয়া পাতা, ঢেরস, পাটশাক, খিরা, চিচিংগা, সরিসা শাক, ওল, গাজর, মটরশুটি, মুলাশাক, ফুল কপি, বাধাকপি।
উপজেলার পালালোকদি গ্রামের সবজি চাষি জানান, শীতকালীন সবজি চাষে খরচ কম লাগে। এতে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এ বছর ২ বিঘা জমিতে বেগুন ও লাউ, ১ বিঘায় বাধাকপি এবং ফুলকপি, দশকাঠা জমিতে ধনেপাতা চাষ করেছি।
আদুরভিটি গ্রামের নুরনবী জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তাই অন্য ফসল ছেড়ে সবজির চাষ করছি। এবছর এক বিঘা জমিতে ভিবিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এতে খরচ হয়েছে চার হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বাজারে বিক্রি ভালো হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে সবজি না আসলে আমরা আরো ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম।
উপজেলার চরকাশিমের সবজি চাষি জিল্লু জানায়, বাজারে সবজির দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে সার, কীটনাশক, বীজ ও পরিবহন খরচ বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, এ বছর শীতকালীন সবজি এখনো পর্যন্ত অনেকে চারা রোপণ করছে। আশা করা যায়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে। শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের পারমর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার ফল পাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক।
- Home
- চাঁদপুর
- মতলব উত্তর
- মতলব উত্তরে শীতকালীন সবজির বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে কৃষকের স্বপ্ন
