আগুনে পুড়ে যাওয়ার ৮ দিন পর
মাহ্ফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বসতঘরের গ্যাসের চুলায় রান্না করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া কিশোরী বৈশাখী আক্তার মীম (১৫) কে শেষ চেষ্টা করেও বাঁচানো গেলো না। গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ কিশোরী বৈশাখী আক্তার ওরফে মীম ৮দিন পর মারা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। বৈশাখী আক্তার ওরফে মীমের বাড়ি উপজেলার ভাঙ্গারপাড় গ্রামে। সে ওই গ্রামের ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর প্রধানীয়া এবং গৃহবধূ শেফালী বেগমের মেয়ে। উপজেলার মতলব বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর অর্থাভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে বসতঘরের গ্যাসের চুলায় রান্না করছিল বৈশাখী। হঠাৎ গলায় পেঁচানো তার ওড়নায় চুলার আগুন ধরে যায়। এতে পা, হাত, বুক ও মুখমন্ডলসহ তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ সময় তার চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে আসেন এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে তাঁরা প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে ওই দিন রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকাল ১০টায় সেখানে মারা যায় সে। আজ বিকেলে তার লাশ এলাকায় পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
বৈশাখীর লাশ এলাকায় পৌঁছালে তার আত্মীয়স্বজন এবং বাবা-মা অঝোরে কাঁদতে থাকেন। পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের কান্নায় ভাঙ্গারপাড় গ্রামে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাউ-মাউ করে কাঁদতে থাকেন তার মা। তার মা শেফালী বেগম জানান, গত ছয় মাস আগে দুর্ঘটনায় তার স্বামী পঙ্গু হন। এখন মেয়েটিও মারা গেল। মেয়েকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়।
