মতলব দক্ষিণে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী আটক

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
মতলব দক্ষিণে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের আন্দী প্রধানীয়া বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় লিটন প্রধান (৪২) ও তার স্ত্রী পারুল বেগম (৩৬) কে আটক করেছে পুলিশ। নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার কাশিমপুর (দিঘিরপাড়) গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে এবং স্থানীয় জোড়পুল বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর প্রতিদিন রাতে জোড়পুল বাজারে নিজ দোকানে ঘুমাতেন। ঘটনার দিন রাতেও প্রতিদিনের মতো দোকানেই ঘুমিয়ে আছেন বলে জানতেন পরিবারের লোকজন। হঠাৎ রাত প্রায় আড়াইটার দিকে একই এলাকার আন্দী প্রধানীয়া বাড়ির লিটন প্রধানের ভাইয়ের স্ত্রী ফোন করে জানান জাহাঙ্গীর মারা গেছে। পরে মতলব দক্ষিণ থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সরেজমিনে পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের আন্দী প্রধানীয়া বাড়ির মো. লিটন প্রধানের বন্ধু ছিলেন নিহত জাহাঙ্গীর আলম। সেই সুবাদে জাহাঙ্গীর আলম লিটন প্রধানের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে লিটন প্রধানের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে সালিস বৈঠক হয়। কিন্তু লিটনের স্ত্রী ও জাহাঙ্গীরের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। এ ঘটনার কোন সমাধান না হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান।
তবে নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আসমা বেগম জানান, আমাদের ছেলেকে প্রবাসে নিবেন বলে আমার স্বামীর কাছ থেকে লিটন প্রধান ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। টাকা নেয়ার পর লিটন প্রধান বিদেশেও নেয় না এবং টাকাও ফেরত দেয় না। ঘটনার দিন ওই পাওনা টাকা আনতে গেলে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ জানান, নিহত জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া সম্পর্ক ও পাওনা টাকার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিটন প্রধান ও তার স্ত্রী পারুল বেগমকে আটক করা হয়েছে।