
উৎপাদন খরচের অর্ধেক মূল্যে গ্রাহককে বিদ্যুৎ দিচ্ছে সরকার ……………………….প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
এস এম সোহেল/সজীব খান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দেশের প্রতিটি গ্রাম আলোকিত করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে আলোচনা করছে। আমরা প্রতিটি গ্রাম আলোকিত করতে চাই, আর সেজন্য আমরা বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন স্থাপন করছি এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে আলোচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোট ৪৩৫.৪ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৩৩/১১ কেভি জিআইএস সাব-স্টেশন এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। এসময় চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলাকেও শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ ভারত থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ভুটান ও নেপালে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে এবং মিয়ানমার ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ঘরে বিদুৎ পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। কেননা বিদ্যুৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন, আর দেশে এখন ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
সরকার দেশের শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের নাগরিক সুযাগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি গ্রাম, উপজেলা ও ইউনিয়নের সকল মানুষকে বিদ্যুতায়নের আওতায় অনা হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, গ্রাম ও শহরের প্রতিটি ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং আমরা সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছি।
যদিও প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার উৎপাদন খরচের অর্ধেক মূল্যে গ্রাহককে বিদ্যুৎ দিচ্ছে।
বিএনপি-জামায়াত সরকার দেশকে পিছিয়ে নিয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা মাত্র ১ হাজার ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাই। সেই অবস্থা থেকে আমরা ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এই খাতকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাই। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস করে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতির পিতা শোষণ বঞ্চনা থেকে জাতিকে মুক্ত করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তিনি সাড়ে ৩ বছরের স্বল্প সময়ে সংবিধান প্রণয়নসহ সকল কিছু করে দিয়েছিলেন। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতির পিতা ‘৫৪ সালে মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ওয়াসা ও বিদ্যুৎ বোর্ড তৈরি করেন। এরপর যার ক্ষমতায় এসেছিল তার সংবিধান পরিপন্থীভাবে। ২০০১ সালে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছিল তারা নিজেদের সুবিধার দিকে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি দিয়েছিল। ২০০৯ সালে আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা খাদ্যের ঘাটতি দিয়ে সরকার গঠন করেছিলাম। আজকে বাংলাদেশে ৯৩ ভাগ বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছি। আমাদের পূর্বে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তারা আমাদের দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ ভারতের কাছে বিক্রি করার পাঁয়তারা করেছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ক্ষমতায় এসে মাত্র ১ হাজার ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নিত করে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মির্জা আজম এমপি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও মো. হাবিবে মিল্লাত এবং এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)’র বাংলাদেশ শাখার কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। পরে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জালানী মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ফিরোজা বেগম, জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পল্লী বিদ্যুতের উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক আবুল কাশেম সরদার, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এএইচএম গিয়াস উদ্দিন, চাঁদপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সিদ্দিকুর রহমান ঢালী, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মো. আলমগীর কবির, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএম মো. কেফায়েত উল্লাহ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জিএম মোহাম্মদ আবু তাহের, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম ইকবাল হোসেন, চাঁদপুর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ সভাপতি মো. আলী আজম রেজা, মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নুরুল আলম ভূঁইয়া, ফরিদগঞ্জের ডিজিএম মোখলেছুর রহমান, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ-২ ডিজিএম (কারিগরি) কমলেশ চন্দ্র বর্মণ, এজিএম অর্থ এমএস সিয়াম সিরাজী, সহকারী প্রকৌশলী মো. সুফি সাদেক, এজিএম প্রশাসন মো. মেহদী হাসান, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ, সেলিম আল দীন, ওয়ারিং পরিদর্শক মো. সোহেল রানাসহ আরো অনেকে।
১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।
