
চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস জড়িয়ে আছে
………জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান
শাহ আলম খান
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেছেন, চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস জড়িয়ে আছে। সেইদিন চাঁদপুরের অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। সেদিনের বিজয়ের জন্য চাঁদপুরের আপামর জনতা সহযোগিতা করেছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সন্তান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে এবং তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। সুতরাং দারিদ্র্যমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও জঙ্গিবাদমুক্ত চাঁদপুর গড়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ দেশটিকে পৃথিবীর বুকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। আজ সারা বিশে^র মানুষ তাকিয়ে আছে কিভাবে এই দেশ এতো উন্নত হয়েছে। আজকের এই মহান বিজয়ের দিনে আসুন আমরা জাতির পিতার স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। গত সোমবার সকাল ৯টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চাঁদপুর স্টেডিয়ামে বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে ৮টা ১০মিনিট পর্যন্ত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন পুলিশ লাইন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সালাম এবং গীতা পাঠ করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী বিমল চন্দ্র দে।
সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সালামি মঞ্চে উপস্থিত হন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক কর্তৃক আনুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন (জাতীয় পতাকাকে সালামি প্রদান) এবং শান্তির প্রতিক পায়রা অবমুক্ত করেন।
সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে প্যারেড কমান্ডার কর্তৃক প্রধান অতিথির কাছে প্যারেড পরিদর্শন এবং অনুমতি প্রার্থনা করেন। ৮টা ৪২ মিনিটে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কর্তৃক কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী দলসমূহ পরিদর্শন করেন। সকাল ৯টায় প্যারেড কমান্ডার কর্তৃক জাতীয় ধ্বনি প্রদান করা হয়। জাতীয় ধ্বনি শেষে প্যারেড কমান্ডার দীপ্তপদভাবে মার্চপাস্টের অনুমতি গ্রহণ করেন। সকাল ৯টা ৫ মিনিট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কর্তৃক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দলের মার্চপাস্টের সালামি গ্রহণ করেন।
সকাল ১০টায় কুচকাওয়াজ এর অংশগ্রহণকারী দলের শারীরিক কসরত এবং ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণপূর্বক ফলাফল প্রস্তুত করেন বিচারকবৃন্দ। একই সময় পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন।
তিনি বক্তব্যে বলেন, আমি আজ মহান বিজয়ের দিনে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও সব বীর শহীদদের। বিশেষ করে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ যারা শহীদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগের কারণেই আজকে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। সাথে সাথে আরো স্মরণ করছি যারা এই চাঁদপুরকে মুক্তকরার জন্য শহীদ হয়েছেন। আজকের এই আয়োজনে যারা অংশগ্রহণ করছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সকাল ১১টায় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সব দলের মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কর্তৃক পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অজয় কুমার ভৌমিক, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন ও হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা শাফি।
