আন্ধেরী হিলফে জার্মানীর সহযোগিতায়
চাঁদপুর মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জার্মানীর আন্ধেরী হিলফের সহায়তায় ‘ইন্ট্রিগ্রেটেড ব্লাইন্ডনেস প্রিভেনশন’ প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ‘টিচার্স ডেমোনেস্ট্রেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা হাসপাতালের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐ কর্মশালায় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মো. রাশেদুর রহমানের সভাপতিত্বে করোনা মহামারীকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেছেন।
দুই পর্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মোতালেব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা অফিসার প্রান্তিক পর্যায়ে চক্ষু চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের এই ধরনের মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি হাসপাতাল যেখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্দেশে দাতা সংস্থাসমূহের সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং যথোপযুক্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি বদ্ধপরিকর। তিনি ঐ প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের জন্য হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদকে এবং আন্ধেরী হিলফে জার্মানী ও আন্ধেরী হিলফে বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ম্যানেজার (এডমিনিস্ট্রেশন) শামীম খানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু জাফর।
তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে সবাইকে অবগত করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালটি অন্ধত্ব নিবারণে বিশেষ করে শিশু অন্ধত্ব নিরসনে এই অঞ্চলে বিনামূল্যে স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রাম, ভ্রাম্যমাণ চক্ষু চিকিৎসা শিবির এবং প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র (স্থায়ী চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র) স্থাপনসহ যেভাবে সেবার ধরন প্রসার করে আসছে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদানসহ দক্ষ জনবল সমৃদ্ধ হাসপাতাল সেবা নিশ্চিত করে আসছে, তার ফলে আগামি অল্প সময়ে অত্র অঞ্চলে অন্ধত্বের হার শূন্যের কোটায় নেমে আসবে।
কর্মশালায় সভাপতি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং দাতা সংস্থা আন্ধেরী হিলফে ও হাসপাতালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সব সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।
কর্মশালার দ্বিতীয় অধিবেশনে চোখের গঠন ও কাজ এবং চোখের বিভিন্ন রোগ এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চক্ষু স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা শীর্ষক মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেন হাসপাতালের চীফ কনসালপেটন্ট ডা. মো. আনোয়ার হোসেন শেখ এবং চোখের রোগ ও চিকিৎসা বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নোত্তর প্রদান করেন হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মো. রাশেদুর রহমান তালুকদার।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে ব্যাগ, স্বাস্থ্য সহায়িকা, ফ্লীপ চার্ট, ভিশন চার্ট ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ উপকরণ প্রদান করা হয়েছে এবং ভিশন চার্ট ব্যবহারের মাধ্যমে দৃষ্টিত্রুটি সনাক্তকরণের বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
১৭ জুন, ২০২১।
