
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে চলছে ইলিশের অভয়াশ্রম। ২২ দিনব্যাপী ষাটনল থেকে চর-আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। কিন্তু কিছু অসাধু জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে কারেন্টজাল ব্যবহার করে মা ইলিশ নিধন করছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় মা ইলিশ রক্ষায় সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীরচরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্ব ৫০ জনের পুলিশের দল রাজরাজেশ্বর গিয়ে পৌঁছে। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীরচরে নবনির্মিত একটি সাইক্লোন সেন্টারে এ অস্থায়ী ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ৫০ জন একটি পুলিশের অভিজ্ঞ চৌকস দল এই ক্যাম্পে অবস্থান করবে। তারা স্থলে অভিযান করবে। কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে এই দলটি স্থলে থেকে সহযোগিতা করবে।
এদিকে চাঁদপুর নদীকেন্দ্রিক যেসব ইউনিয়ন রয়েছে তার মধ্যে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মা ইলিশ নিধন হয়। এ বছর আটক জেলেদের মধ্য রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের জেলের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। গত বছর এ ইউনিয়নে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা গরুর ঘরের সাথে গর্ত করে প্রায় ১শ’ ২৪ মন ইলিশ সংরক্ষণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করেন।
জানা গেছে, প্রতিবছর ঝাটকা ইলিশ ও মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের অনেক জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জেলেরা নদীতে নামে। সচেতন মহলের দাবি শুধু জেলে নয়, এসব দাদনদার জনপ্রতিনিধিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলেরা নদীতে মাছ ধরার সাহস পায়।
এলাকাবাসী জানায়, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে নদী তীরবর্তী বেশ কিছু খাল রয়েছে। নদীতে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ মাছ ধরার নৌকা ধাওয়া দিলে এরা এই খালগুলোতে ঢুকে আত্মগোপন করে। এছাড়া ঐ ইউনিয়নের লক্ষীরচরে বসে বড় মাছ কেনা বেচার হাট। রাজরাজেশ্বরের এই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থলে অভিযান করলে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম অনেক বেগবান হবে।
