মুজিববর্ষে হাজীগঞ্জে ভূমিসহ পাকাঘর পাচ্ছে ১০৫ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে ২য় পর্যায়ে হাজীগঞ্জে ‘ক’ তালিকাভুক্ত উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুর্নবাসন বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স করেছে উপজেলা প্রসাশন। যাদের কোন ধরনের ভূমি ও ঘর নেই, এরকম উপজেলায় ১০৫টি পরিবারকে ভূমি ও গৃহ প্রদানের মাধ্যমে পূনর্বাসন করা হবে বলে কনফারেন্সে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার।
কনফারেন্সে আরো বলা হয়, যাদের ভূমি আছে কিন্তু ঘর নেই তাদেরও ‘খ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে একটি তালিকা করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন পূনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে ‘খ’ শ্রেণির তালিকা অনুযায়ী কাজ করা হবে। যদিও ইতোপূর্বে যাদের ভূমি আছে ঘর নেই, এরকম ৫৫০টি পরিবারকে সরকারি ও বেসরকার উদ্যোগে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলা ই-সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। তিনি বলেছেন, মুজিববর্ষের মধ্যে দেশের একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না। সে লক্ষে সাত লাখেরও বেশি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ভূমিসহ ঘর প্রদানের জন্য ‘আশ্রয়ন’ প্রকল্প নামের একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ (আশ্রয়ন-১) বাস্তবায়ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপও (আশ্রয়ন-২) বাস্তবায়িত হচ্ছে। যা প্রধানমন্ত্রী আগামি ২০ জুন উদ্বোধন করবেন। পরবর্তীতে বাকি ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশে^র ইতিহাসে একটি নজীর সৃষ্টি করেছেন। যা পৃথীবির ইতিহাসে আর কোন দেশ, এক সাথে এতো পরিবারের ভূমিসহ ঘরের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন গাজী মাইনুদ্দিন।
কনফারেন্সে উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের বিস্তারিত উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, তালিকাভূক্ত ১০৫টি পরিবারের মধ্যে ১ম পর্যায়ে ৫টি পরিবারকে সরকারি খাস জমিতে ভূমিসহ গৃহ প্রদানের মাধ্যমে পূনর্বাসন করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে ৪টি পরিবারের পুনর্বাসন করা হবে। বাকি ৯৬টি পরিবারের মধ্যে ৭২ পরিবারকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পূনর্বাসন করার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, যে ২৪টি পরিবারের জন্য এখনো ভূমির ব্যবস্থা করা যায়নি, তাদের জন্য খাস জমি সংগ্রহে আমরা চেষ্টা করছি। যদি খাস জমি পাওয়া না যায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ভূমি ক্রয় করে পূনর্বাসন করা হবে। তিনি আরো বলেন, উল্লেখিত ১০৫টি পরিবারকে ভূমি ও ঘরের পাশাপাশি টয়লেট ও রান্নাঘর করে দেওয়া হবে। এছাড়া সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, আর্সেনিকমুক্ত পানি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের জন্য আয়-বর্ধনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপজেলায় কর্মরত সব পর্যায়ের সংবাদকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসাইনের উপস্থাপনায় সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন আল আজাদ, পরবর্তী মেয়াদের সভাপতি গাজী সালাউদ্দিন, সাবেক সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম ও কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদার।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সদস্য কবির আহমেদ, এসএম মিরাজ মুন্সী, সাইফুল ইসলাম সিফাত, মনজুর আলম পাটোয়ারী, গাজী মহিন উদ্দিন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যসহ জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ জুন, ২০২১।