করোনাকালীন সংকটে ইউনিয়ন পরিষদগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
………আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুরের আয়োজনে ‘করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় সরকার খাতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক’ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা বুধবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সনাক সভাপতি শাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনাকালীন সময়ে তারা বিভিন্নভাবে হতদরিদ্র মানুষদের সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকার আন্তরিকতার সাথে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিগত একবছর ধরে করোনা মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন সচেতনতার কথা বললেও সাধারণ জনগণ তা মানছে বা মানুষ মনে করে করোনার আতঙ্ক কেটে গেছে। কিন্তু তা নয় প্রতিদিনই করোনায় বহু লোক মৃত্যুবরণ করছে। তিনি জানান, গতকালও চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্তের হার ছিলো ২৮%।
তিনি আরও বলেন, আমার সুরক্ষা আমার হাতেই। এটা আমাদের মানতে হবে। আমাদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে। তিনি করোনা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য বেসরকারি সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি নতুন কর্মস্থলে যাতে করে সুনামের সাথে কাজ করতে পারেন এজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি, চেয়ারম্যান-মেম্বার কল্যাণ ট্রাস্টের মেম্বার সেক্রেটারি ও বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ বেলায়েত হোসেন গাজী বিল্লাল বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই সনাক-টিআইবি আমার ইউনিয়নে কাজ শুরু করেছে। আমি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তাদের কাজগুলো নিয়েছি এবং তাদের পরামর্শে ও সহযোগিতায় অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজগুলো করে যাচ্ছি। ২০২০ সালে করোনার শুরুতেই মানুষের মধ্যে যেধরনের আতঙ্ক ছিলো ২০২১ সালেও করোনার প্রাদুর্ভাব থাকলেও মানুষের মধ্যে সে আতঙ্ক নেই।
তিনি বলেন, সরকারের নীতিমালা ও করোনাকালীন সময়ে সরকারের প্রণোদনা চেয়ারম্যানরা সঠিকভাবে বিতরণ করলেও কিছু প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পরায়ণ এমনকি চেয়ারম্যানকে বিতর্কিত করার জন্য কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্ন চেয়ারম্যানের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সনাক-টিআইবি যেভাবে কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমি মনে করি সনাক-টিআইবি স্থানীয় সরকারের মতো প্রতিটি সেক্টরে যদি এভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য কাজ করে তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে যাবে। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করবে। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যাতে করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজগুলো করতে পারে এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলো এখন অনলাইনের আওতায় চলে এসেছে। চমৎকার আধুনিকায়ন হয়েছে পরিষদগুলোতে। করোনাকালীন ২০২০ ও ২০২১ সালের দুই মেয়াদেই সরকার দরিদ্র জনগণের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েছে। তিনি বলেন, মূল কথা হলো প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দরিদ্রের তালিকা তৈরি করার জন্য চেয়ারম্যানরা সময় খুবই কম পেয়েছে। কিছুটা ভুল থাকতেই পারে। তারপর আবার এ তালিকা তৈরি করার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানগণ পারিপার্শ্বিক কিছু চাপের মুখে ছিলেন। তিনি বলেন, বিচ্যুতির পাশাপাশি কিছু কিছু চেয়ারম্যান ভালো কিছু কাজ করে নজিরও সৃষ্টি করেছেন। অস্বচ্ছতা আমরা চাই না। আমি আশা করি ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সনাকের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত মুক্ত আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন। এসময় তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি আমরা সচরাচর দেখতে পাই না। করোনার কারনে জনগণ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। সব কিছুর উর্ধ্বে থেকেও ইউনিয়ন পরিষদগুলো যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এটাই আমাদের কাম্য।
করোনাকালীন ইউনিয়ন পরিষদের প্রণোদনাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন ও বিতরণ, নাগরিক সেবা, দাপ্তরিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম ইত্যাদি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছাত্তার রাঢ়ী, আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন। হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রোকন উদ্দিন, বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মহিবুবুল আহসান, ইয়েস গ্রুপের সাবেক দলনেতা দীন মোহাম্মদ দিলরাজ, ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সদস্য নাঈমা ফেরদৌসী প্রমুখ।
করোনাকালীন সময়ে স্থানীয় সরকারখাতে সুশাসন নিশ্চিতকরণে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন টিআইবি চট্টগ্রাম ক্লাস্টারের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, টিআইবি চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি সেক্টর নিয়ে কাজ করছে তারমধ্যে অন্যতম হলো স্থানীয় সরকার। সনাক-টিআইবি মূলত ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য কাজ করছে। তিনি করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় সরকারের প্রণোদনার উপর টিআইবি কর্তৃক প্রদত্ত রিপোর্টের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, করোনাকালীন ইউনিয়ন পরিষদের প্রণোদনাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন ও বিতরণ, নাগরিক সেবা, দাপ্তরিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো যাতে স্বচ্ছতার সাথে হয় আমরা সেটাই কামনা করি।
সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি শাহানারা বেগম বলেন, আজকের আলোচনা সভায় চেয়ারম্যানগণ যেভাবে পরিস্কারভাবে তাদের কাজগুলো তুলে ধরেছেন এটাই হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। আমি মনে করি সনাক-টিআইবি’র এটাও একটা সফলতা। সনাক কয়েক বছর আগে থেকেই ভিজিডি মনিটরিং করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রণোদনা চেয়ারম্যানের কোন দরিদ্র আত্মীয় থাকলে সেও অবশ্যই পাবে। তবে সেক্ষেত্রে যাতে কোন ধরনের অনিয়ম না হয় সেটাই আমরা চাই।
টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের সহ-সভাপতি ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকবৃন্দ, চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিববৃন্দ, সুশীল সমাজের নের্তৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ, সনাক-স্বজন-ইয়েস-ইয়েস ফ্রেন্ডস্ গ্রুপের সদস্যবৃন্দ ও টিআইবি কর্মীবৃন্দ।
১৭ জুন, ২০২১।
