মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে প্রবাস ফেরৎ যুবক সুমনের (৩৫) মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তারা। কিন্তু লাশ উদ্ধারের পর ৩ দিন পার হলেও এখনো পরিবার থেকে মামলা করা হয়নি। বরং হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। এর আগে গত ২৪ আগস্ট চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সুমনের
মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
ওইদিন দুপুরে উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম দেশগাঁও গ্রামের ডা. নুরুল আমিনের বাগান থেকে সুমনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের সিংহের বাড়ির আবদুল মতিনের ৬ সন্তানের মধ্যে ৩য়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান থেকে প্রায় এক যুগ কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে আসে সুমন। তার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখাও শুরু করে তার পরিবার। কিন্তু অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু সবকিছু শেষ করে দিয়েছে।
সুমনের পারিবারিক ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সবার সাথে হাসি-খুশিভাবে কথা বলে ঘর থেকে বের হয় সুমন। এরপর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির পাকা ঘাটলায় তাকে বসে থাকতে দেখেছে পরিবারের সদস্যরা। পরদিন (২৪ আগস্ট) বাড়ির পাশে ডা. নুরুল আমিনের বাগানে সুমনের লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, সুমন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার করার মতো কোন ঘটনা তাদের পরিবারে ঘটেনি। অর্থাৎ সুমনের সাথে কারো সাথে কোন ধরনের মান-অভিমান, মন-মালিন্য বা ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। তাহলে কেন সে আত্মহত্যা করলো, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, পরিবারের সদস্যের মাথায়। তবে ঘটনা যাই ঘটুক, তারা সঠিক তদন্ত দাবি করছেন।
এদিকে সুমনের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকায়ও শোরগোল চলছে। সুমন কি হত্যার শিকার, নাকি আত্মহত্যা..? এমন প্রশ্ন তাদের মাঝে। তাই পুলিশের কাছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার দাবি জানান পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীরা।
সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দায়ের হয়নি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
২৭ আগস্ট, ২০২১।
