মেয়র নির্বাচিত হলে, পৌরবাসীর শতভাগ চাহিদা পূরণ করবো

হাজীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান খানের সাক্ষাৎকার

আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘মেয়র’ পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান খান। নির্বাচনসহ পৌরসভা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন দৈনিক ইলশেপাড়’র ব্যুরো ইনচার্জ (হাজীগঞ্জ) মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্সহ অন্যান্য সংবাদকর্মীদের সাথে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো….
ইল্শেপাড় : কেমন আছেন?
আব্দুল মান্নান খান : আলহামদুলিল্লাহ, সবার দোয়ায় ভালো আছি।
ইল্শেপাড় : কেন আপনি আবারো মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান?
আব্দুল মান্নান খান : জনসেবার উদ্দেশ্যে আমি আবারো মেয়র পদপ্রার্থী। কারণ, দায়িত্বশীল পদে থাকলে কাজ করতে সহজ হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী মানুষের সেবা ও কল্যাণমূলক কাজ করা যায়।
ইল্শেপাড় : আপনি তো দীর্ঘদিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সমর্থনে চারবার মেয়র নির্বাচন করেছেন এবং দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। আপনি কি মনে করেন, এবারো আপনাকে দল মনোনয়ন দিবে?
আব্দুল মান্নান খান : আমি আশাবাদী। কারণ, টানা ১২ বছর স্বচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে এবং দলীয় সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে পৌরবাসীর সেবা করেছি। তৃতীয়বারেও আমি পৌরবাসীর ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু আমাকে হারানো হয়েছে।
ইল্শেপাড় : দলীয় মনোনয়ন না পেলে কি করবেন?
আব্দুল মান্নান খান : রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তাই সময় বলে দিবে, আমাকে কি করতে হবে।
ইল্শেপাড় : দলীয় মনোনয়ন পেলে পৌরবাসী কি আপনাকে ভোট দিবে?
আব্দুল মান্নান খান : ইনশআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী এবং আমার দৃঢ় বিশ^াস, দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি ‘মেয়র’ নির্বাচিত হবো। কারণ, সম্মানিত পৌরবাসী তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন।
ইল্শেপাড় : মেয়র হিসেবে ১২ বছর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আপনার সফলতা?
আব্দুল মান্নান খান : ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, পৌর ভবন নির্মাণ, পৌর কবরস্থান, খেয়াঘাটে ট্রাকঘাট ও ট্রাকরোড নির্মাণ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট অনুমোদন ও অর্থায়নের ব্যবস্থা, সড়কে সোডিয়াম লাইট স্থাপন, সড়কবাতির এভারেজ বিদ্যুৎ বিলের পরিবর্তে মিটার স্থাপন ইত্যাদি।
ইল্শেপাড় : ১২ বছরে ব্যর্থতা?
আব্দুল মান্নান খান : সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জটিলতার কারণে হাজীগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তায় স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ ও পৌর এলাকায় পর্যাপ্ত ভূমি (৪/৫ একর সম্পত্তি) না পাওয়ার কারণে শিশুপার্ক করতে পারিনি।
ইল্শেপাড় : আপনার দৃষ্টিতে বর্তমানে পৌর এলাকার উল্লেখ্যযোগ্য সমস্যা?
আব্দুল মান্নান খান : আবর্জনা ডাম্পিং, ওয়ার্ডভিত্তিক জলাবদ্ধতা, ৫নং ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট, হকার্স পূনর্বাসনসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।
ইল্শেপাড় : আপনি নির্বাচিত হলে কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবেন?
আব্দুল মান্নান খান : পৌরবাসীর সহযোগিতায় চলমান সেবা ও উন্নয়নের পাশাপাশি আমি আবর্জনা ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা, ওয়ার্ড ভিত্তিক জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ড্রেন নির্মাণে গুরুত্বারোপ, ৫নং ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট নিরসন, শিশুপার্ক এবং হকারদের পূনর্বাসনের চেষ্টা করবো।
ইল্শেপাড় : ১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডে জনগণ সাপ্লাইয়ের পানি থেকে বঞ্চিত। এ বিষয়ে আপনার করণীয়?
আব্দুল মান্নান খান : আমি নির্বাচিত হলে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পরিশোধিত পানি ১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডে সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করবো।
ইল্শেপাড় : আপনার কোন বক্তব্য?
আব্দুল মান্নান খান : আমি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ইউজিপিপি ও বিএমডিএফ নামক ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত দুটি প্রজেক্টের অনুদান দিয়ে পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি। কিন্তু আমি চলে আসার পর, জানি না কেন বা কার ব্যর্থতায় এই দু’টি প্রজেক্ট থেকে অনুদান পাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে পৌরবাসী অন্তত ৫০ কোটি টাকার অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলা নির্মাণ কাজের টেন্ডার দিয়ে এসেছিলাম, সেটাও হয়নি।
ইলশেপাড় : আপনাকে ধন্যবাদ।
আব্দুল মান্নান খান : আপনাকেও ধন্যবাদ। সবশেষে পৌরবাসীর কাছে দোয়া চাই। মেয়র থাকাকালীন সময়ে এবং বিগত ৫ বছর মেয়র পদে না থেকেও আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং কথা দিলাম, আমৃত্যু আপনাদের সাথেই থাকবো। সেই সাথে আগামি দিনে দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং মেয়র নির্বাচিত হলে, পৌরবাসীর শতভাগ চাহিদা পূরণ করবো।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০।