
চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত
এস এম সোহেল
চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার মেয়র প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল দিনব্যাপি পুরাণবাজার ২নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল পায়ে হেটে ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহৃত রাখার আহ্বান জানান।
মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল প্রথমে পুরাণবাজার লোহারপুল বাজার, ঘোষপাড়া, ছৈয়াল বাড়ি, মদিনা মসজিদ এলাকা, ভাওয়াল বাড়ি, বৌ-বাজার, কবরস্থান রোড, হরিসভা, মধ্য শ্রীরামদী, পশ্চিম শ্রীরামদী, রয়েজ রোড, রামদাসদী রোড, ম্যারকাটিজ রোড, নতুন রাস্তাসহ ২নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা গণসংযোগ করেন। কবরস্থান রোড বালুর মাঠসহ কয়েকটি উঠান বৈঠকে অংশ নেন মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল।
উঠান বৈঠকে মেয়র প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল তার বক্তব্যে বলেন, পুরাণবাজারে ১৯৭০ সালের আগে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো। এখানে আমাদের অনেক আত্মীয় রয়েছে। এখানকার একজন ব্যবসায়ীর সন্তান হিসেবে সকলের আপনজন আমি। আমি সকলের সন্তান ও ভাইতুল্য। অবিভক্ত ভারত বর্ষের পুরাণবাজারে বাণিজ্যের গুরুত্ব ছিলো। ভৌগলিক কারণে ভারত বর্ষের প্রসিদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পুরাণ বাজার গড়ে উঠে। নৌ-পথে ভারত বর্ষ, বৃটেনের লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মালবাহী জাহাজ চাঁদপুর আসতো। এখান থেকে সড়ক ও রেলপথে আসামসহ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় বাজারগুলোতে মালামাল ও যাত্রী পরিবহন করা হতো। তাই চাঁদপুরকে আসাম-বেঙ্গল গেটওয়ে বলা হতো। পুরাণবাজারের বাণিজ্য ও চাঁদপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা কেন্দ্র করেই এ ছোট শহরটিকে একশ’ পঁচিশ বছর আগে চাঁদপুর পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পুরাণবাজারে বাণিজ্যিক পরিধি ও গুরুত্ব কমে আসে। আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে পুরাণবাজারে বাণিজ্যিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তিনি চাঁদপুর পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমি তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবো। পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করে চাঁদপুরকে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও পর্যটন নগরী হিসেবে বিশ্বে আবার নতুন করে পরিচিত করে তার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবো।
তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সৎ জীবন যাপন করেছি। অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি। আমি নির্বাচিত হলে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবো। জীবন দিয়ে হলেও মাদকমুক্ত পুরাণবাজার তথা চাঁদপুর গড়ে তুলবো। আপনারা ড্রেনেজ, রাস্তাঘাটের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান করবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক অজয় ভৌমিক, উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. রঞ্জিত রায় চৌধুরী, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাসান ইমাম বাদশা, চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাধা গোবিন্দ গোপ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, আওয়ামী লীগনেতা অ্যাড. সাইফুদ্দিন বাবু, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক শেখ, জেলা পরিষদ সদস্য মুকবুল হোসেন মিয়াজী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নেতা নুরুল হায়দার সংগ্রাম, সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম সুমন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুব বেপারী, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী, সাধারণ সম্পাদক খায়ের মিজি, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর খন্দকার, কামাল হাওলাদার, ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হাওলাদারসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
