মোহনপুরে নির্মাণ হচ্ছে পর্যটন স্পট

মনিরুল ইসলাম মনির
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মত বিনোদনও মানুষের অন্যতম চাহিদা। সময় করে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়াবে, আনন্দ করবে, শিশুরা পাবে বিনোদন এই স্বপ্ন মতলববাসীর দীর্ঘদিনের। প্রাণের দাবি ছিল একটি বিনোদন পার্ক নির্মাণের। পর্যটন নির্মাণের কাজ অর্ধেকাংশ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
চাঁদপুর জেলার মতলববাসীর স্বপ্নপূরণে নিরলস প্রচেষ্টায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে আধুনিক একটি বিনোদন পার্ক গড়ে উঠছে। মেঘনা নদীর পাড়ে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন মোহনপুর মৌজায় ৬০ একর জমির উপর তৈরি করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এই পর্যটন স্পটটি। এলাকার সব শ্রেণি-পেশার লোকদের সমন্বয়ে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড নামে এই পর্যটন স্পটটি নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রতিদিন শত শত শ্রমিক কাজ করছে। এটি মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে। এর মূল উদ্যোক্তা তথা পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী মিজানুর রহমান।
সাক্ষাতে তিনি বলেন, আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিলো বৃহত্তর মতলবে একটি আধুনিক মানের বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার। যেখানে মানুষ ঘুরতে এসে একটু বিনোদন পাবে, পরিবার পরিজন নিয়ে শিশুরা আনন্দে মেতে উঠবে। শহরের ব্যস্ততা ভুলে এখানে এসে মানুষ পাবে ছায়াসুুনিবিড় একটু নিরিবিলি পরিবেশ, নির্মল বাতাস। সবার জন্যে থাকবে আধুনিক সব উন্নত মানের রাইড। পর্যটন কেন্দ্রটি হবে দেশের বৃহৎ ও অত্যাধুনিক একটি বিনোদন পার্ক ও পিকনিক স্পট, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বেড়াতে আসবে। এখানে মানুষ এসে পরিপূর্ণ বিনোদন পাবে বলে আমার আশা। এসব চিন্তা করেই আর্ন্তজাতিক মানের পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে এটিকে। এপর্যন্ত প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অতি দ্রুত পার্কটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
মিজানুর রহমান আরও জানান, মতলব উত্তর উপজেলাকে সমগ্র দেশব্যাপী পরিচিত করা ও এলাকার যুব সমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্যেই আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। ইতোমধ্যে চার শতাধিক যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি পরিপূর্ণভাবে চালু হলে প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। মোহনপুর পর্যটন লিমিটেডের সরকারি রেজিঃ নং সি-১৬২৬৮৩/২০২০। এখানে পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করার জন্য পর্যটনের মূল ফটকে থাকবে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর নামে ইলিশের বড় একটি প্রতিচ্ছবি। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং নতুনত্ব থাকবে এখানে।
শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পার্কে থাকবে বিভিন্ন রাইড, থ্রিস্টার ও ফাইভ স্টার মানের হোটেল, রেস্ট হাউজ, মেন্যু অনুযায়ী খাবার সরবরাহ, ক্যান্টিন, পিকনিক স্পট, নৌকা ভ্রমণ, মিনি শিশু-পার্ক, রিভার ড্রাইভ, সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার সুব্যবস্থা, সুবিশাল খেলার মাঠ, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং, দক্ষ বাবুর্চি, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা, পানির জার ও পার্কিং সুবিধা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা জন্মদিনের উৎসব পালনের জন্য ২ সহস্রাধিক আসনের উন্মুক্ত মঞ্চ।
ওয়াটার পার্কে থাকবে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ড্রেসিং রুম, পৃথক লকার এবং ওয়াটার পার্কের বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক। পার্কের জলজ রাইডগুলোর মধ্যে থাকবে স্পীড বোটিং ও সোয়ান বোটিং। এছাড়া শিশুদের জন্য এখানে থাকবে সুইং চেয়ার ও ট্রেন। পর্যটন কেন্দ্রে মসজিদ, কেনাকাটার সুবিধার্থে অত্যাধুনিক মার্কেট, ওয়াচ টাওয়ার, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যুরাল, দূরপাল্লার লঞ্চের জন্যে পন্টুন ব্যবস্থা, নদীপথে ভ্রমণের জন্য স্পীড বোট, প্রাথমিক স্বাস্থ সেবা কেন্দ্র, ডিনার ক্রোইজ, ঢাকা সদরঘাট হতে মোহনপুর পর্যটন ও মোহনপুর পর্যটন থেকে চাঁদপুর মোহনা পর্যন্ত ট্যুরের ব্যবস্থা। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে চৌকষ নিরাপত্তা বলয়। ২৪ ঘণ্টার সর্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা।
পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য দেশী-বিদেশী পর্যাপ্ত গাছ লাগানো হচ্ছে। এ পর্যটন কেন্দ্রটিতে এক সাথে লক্ষাধিক দর্শনার্থী এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। পিকনিক স্পটগুলোতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্যে, পরিবারের জন্যে এবং বিভিন্ন সংগঠনের পর্যটকগণের জন্যে পিকনিক আয়োজনের ব্যবস্থা থাকবে।
এক কথায় মোহনপুর পর্যটন লিমিটেডকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
২৮ ডিসেম্বর, ২০২০।