লোডশেডিং বন্ধ ও ডিজিএম’র অপসারণের দাবিতে বিদ্যুতের ৫ কর্মীকে অবরুদ্ধ

রূপসায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং চরমে

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ৫ কর্মীকে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ হিসেবে অবরুদ্ধ করেছে জনতা। সোমবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার রূসপা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে অবরুদ্ধ বিদ্যুৎ কর্মীদের উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুপসা বাজারসহ আশেপাশের এলাকাতে বিদ্যুতের লোডশেডিং দিন-দিন বেড়েই চলছে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অফিসে এসে এবং মুঠোফোনে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও গুরুত্ব দেননি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার দিন বিদ্যুতের কর্মীরা গ্রাহক থেকে বকেয়া উত্তোলনের বিষয়ে মাইকিং করতে গেলে তখনো ওই এলাকাটিতে লোডশেডিং চলছিল। এতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে দু’জনকে অবরুদ্ধ করে। পরবর্তীতে এজিএম আবুল কালামসহ আরো ৩জন ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও জনতার রোষাণলে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে রূপসা জমিদারদের বংশধর সৈয়দ মেহেদী হাসান চৌধুরী ওই বিদ্যুৎকর্মীদের উদ্ধার করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতারা বলেন, অসহনীয় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি প্রদান করেন। যার কারণে তাদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরো বলেন, আগের ডিজিএম থাকার সময় আমাদের এখানে লোডশেডিং ছিলো না বললেই চলতো। কিন্তু বর্তমান ডিজিএম আসার পর থেকেই মারাত্মকভাবে লোডশেডিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে যেমনিভাবে বাচ্চাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে, একইভাবে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে আসছে। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান মিলেনি। এ সময় তারা একযোগে বর্তমান ডিজিএম-এর অপসারণ দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম পাটওয়ারী, আবুল কামাল ও শুক্কুর আলীসহ বেশ কয়েকজন জানান, গত এক সপ্তাহ যাবত প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। তারা আরো বলেন, বিদ্যুতের এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। পাশাপাশি সব স্টেশনারি ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
রুপসা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি ফারুক খাঁন ও বিদ্যুতের ঠিকাদার আবুল কালাম বলেন, রুপসা এলাকায় প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ অফিসের কয়েকজনকে আটকে রেখেছে- বিষয়টি আমরা জানতে পেরে স্থানীয়দের শান্ত করে সৈয়দ মেহেদী হাসান চৌধুরীর সহযোগিতায় পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে নিরাপদে রেখেছি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএম রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমার পল্লী বিদ্যুতের দু’কর্মীকে আটক করার খবর পেয়ে আমিসহ ৩ জন ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় জনতার রোষাণলে পড়তে হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানালে তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান হয়।
এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ডিজিএমকে পাওয়া যায়নি ও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে এএসআই ইকরামুল হকসহ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত না হলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারতো। জানা গেছে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয়রা বিদ্যুৎ কর্মীদের আটক রাখে। তবে কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি।

২১ জুন, ২০২২।