শারদীয়া দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী পূজা সম্পন্ন

মন্দিরে-মন্দিরে কড়া নিরাপত্তা

স্টাফ রিপোর্টার
হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার মহা অষ্টমী বিহীত পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদপুর শহরের মন্দিরগুলোতে সকাল থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নর-নারী, তরুণ-তরুণী অষ্টমী পূজায় অঞ্জলী গ্রহণের জন্য সমাগম ঘটাতে থাকে। কুমিল্লায় পূজা মন্দিরে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় চাঁদপুরের মন্দিরগুলোতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
শারদীয়া দুর্গা উৎসবের অষ্টমী পুজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বদ করে বিজয় লাভ করেছিলেন। এ পূজার দিনে ভক্তরা বিধিসম্মতভাবে অষ্টমী বিহীত পুজা করে দেবী দুর্গার কৃপা প্রার্থনা করেন। অষ্টমী তিথিতে পুজা করার সময় দেবী দুর্গাকে মহালক্ষ্মী হিসেবে সম্পদ, স্থায়িত্বশীলতা, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধের প্রতীক হিসেবে পূজা করে থাকে। পূজা শেষে ভক্তরা দেবী দুর্গার উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। অষ্টমী তিথি পূজায় ৯টি পাত্রে ভিন্ন রঙের পতাকা স্থাপন করা হয়। যা দেবীর ৯টি শক্তিকে উৎসর্গ করে পূজা করা হয়। পূজার উপকরণ সাজিয়ে অষ্টমী বিহীত পূজার নির্ধারিত মন্ত্র পাঠ করে পূজা করা হয়। কথিত আছে মহা অষ্টমীতে দেবী দশভুজার অষ্ট সখি ও দেবীর অস্ত্র সমূহকে আরাধনা করা হয় দুষ্টের দমন করতে, দেবীর শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। এই অস্ত্র শক্তি প্রভূ রামের সহযোগী হয়ে রাবনকে বিনাশ করতে। আবার কেউ কেউ মনে করেন দেবী দুর্গার তৃতীয় নয়ন থেকে মা কালীর বিনাশী শক্তির উদ্ভব হয় তাই দেবী শক্তিকে বিশেষভাবে পুজা করা হয়।
চাঁদপুর শহরের রাম কৃষ্ণ আশ্রম, কালী বাড়ি মন্দির, গোপাল জিউর আখড়া, পুরাণবাজার হরিসভা মন্দির, বারোয়ারী মন্দির, দাসপাড়া মন্দির, নিতাইগঞ্জ মন্দির, কল্যানপুর ইউনিয়নের বড় সূত্রধর বাড়ির দুর্গা মন্দিরেও মহা অষ্টমী তিথিতে ভক্তদের ব্যাপক সমাগমে অঞ্জলী প্রদান করা হয়।
চঁাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের বড় সূত্রধর বাড়িতে স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেন চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ। কুমিল্লার নানুয়ার দিঘীর পাড় মন্দিরে ঘটে যাওয়া অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রতিটি পূজামন্ডপে পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা কড়া নজরদারি রাখছেন।

১৪ অক্টোবর, ২০২১।