শাহরাস্তি প্রতিনিধি
শাহরাস্তি মাদ্রাসার মাহিলা প্রভাষকের বিরুদ্ধে প্রিন্সিপলের অশ্লীল কথায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও প্রিন্সিপলকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদিঘী ফাজিল মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক হাজেরা আক্তার শ্রেণী কক্ষে পাঠ দান করছিলেন। পাঠদান শেষে শিক্ষক কমন রুমে আসলে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপল মাও. দেলোয়ার হোসাইন অশ্ল¬ীল ভাষায় গালমন্দ করেন। ঘটনায় মৌখিক শ¬ীলতাহানীর কারনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং শিক্ষার্থীরা প্রিন্সিপলের অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভসহ প্রিন্সিপলকে তার নিজ কক্ষে এক ঘন্টাকাল অবরুদ্ধ করে রাখে।
ঘটনাটি নিয়ন্ত্রনে আনতে শাহরাস্তি মডেল থানার এসআই নজরুল ইসলাম ও উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মেহানী মীরা মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং ঘটনা নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এবিষয়ে প্রভাষক হাজেরা আক্তার বলেন, সহকারী প্রভাষক মো. বিল¬াল হোসেন আমাকে ডেকে বলেন, আমি যেন শ্রেণী কক্ষের সেমিনার টেবিলে পেট ঠেকিয়ে পাঠদান না করি এবং তলপেট ভারী হয়ে গেলে যেন প্রিন্সিপলের সাথে দেখা করি। ওই সময় সহকারী প্রভাষক মো. বিল¬াল হোসেন এটা প্রিন্সিপলের ম্যাসেজ বলে জানান। প্রিন্সিপলের বাহক এমন অশালীন কথাগুলো বলার সময় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগন ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, অতিতেও প্রিন্সিপল এধরনের কাজ করেছেন। বহুবার তিনি ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন। এমন অসামাজিক আচরণ ও অশ¬ীল বক্তব্য ভবিষ্যতে না করার জন্য এবার আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। নিজের ও চাকুরীর নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযুক্ত প্রিন্সিপল মাও. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানে স্বার্থে শিক্ষকদের সাথে এমন আচরণ করি। শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে মাঝে মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করতে বাধ্য হই। আমার সাথে প্রভাষক হাজেরা আক্তারের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। এমন আচরণের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রিন্সিপলের বার্তা বাহক সহকারী প্রভাষক মো. বিল¬াল হোসেন বলেন, প্রিন্সিপল সাহেব আমাকে ডেকে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক হাজেরা আক্তারকে একটি অশ¬ীল ম্যাসেজ পৌঁছাতে বলেন যা আমি ওনার নির্দেশক্রমে ম্যাসেজটি পৌঁছে দেই।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রিন্সিপল মাও. দেলোয়ার হোসাইন প্রায় দিন মেয়ে শিক্ষার্থীদের মেয়ালী ভাষায় গালমন্দ করেন আর ছেলেদের মা-বোন নিয়ে গালি দেন। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে ক্লাশে প্রবেশ করে বেদম প্রহার করেন। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা প্রিন্সিপলের অপসারণ দাবি করেন।
এলাকাবাসী বলেন, আর কত? এভাবে প্রিন্সিপল বহুবার করেছেন। ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তার কাছে মা-বোন, মেয়ে নেই। সবার সাথে অশ্লীল ভাষায় অসামাজিক আচরন করেন তিনি। এধরনের ঘটনা তিনি আরও ঘটিয়েছেন।
