শিক্ষক বরখাস্তের পর স্বপদে ফিরলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই আর্থিক দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকার সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) মো. আবদুল কাদেরের ০১-০৩-২০২১ স্বাক্ষরিত (স্মারক নং ৩৭.০২.০০০০.১০৫.৩১.০৪৮.২০২০-৩৭৭-৩) একটি নির্দেশনা প্রতিবেদনে সভাপতি, গভর্নিং বডি, নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি কলেজের অনুকূলে প্রেরণ করা হয়। গত ৩ মার্চ মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিশ আদেশ থেকে জানা যায়, যদি কোনো কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার পর পুনঃরায় স্বপদে বহাল হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই ঐ শিক্ষকের আর্থিক দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে।

ঐ নির্দেশনা প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক আইয়ুব আবেদেন চৌধুরী ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা  অধিদপ্তর  বাংলাদেশ, ঢাকার অনুকূলে বকেয়া বেতন-ভাতার জন্য আবেদন করেন।

তার দাবিকৃত বকেয়া বেতন-ভাতা বিষয়ে আইন শাখার একটি মতামত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক আইয়ুব আবেদেন চৌধুরীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ২৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর সাময়িক বরখাস্তের বিরুদ্ধে তিনি হাজীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মোকাদ্দমা নং ৬৪/২০১২ দায়ের করেন। উক্ত মকাদ্দমা ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাদীর পক্ষে রায় হয়। সে রায়ে বাদীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বেআইনি, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং বাদীকে শিক্ষকতার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ও বেতন-ভাতাদি গ্রহণে বাধা সৃষ্টি না করতে আদেশ দেয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ আদালতের রায় অমান্য করে এ রায়ের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালত চাঁদপুরে দেওয়ানী আপিল মোকাদ্দমা ১২/২০১৬ দায়ের করেন।

ঐ আপিল মোকাদ্দমাটি ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট  নামঞ্জুর হয় এবং নিম্ন আদালতের রায় ও আদেশ বহাল রাখা হয়। পরবর্তীতে দেওয়ানী মোকাদ্দমার রায় ও আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাদী একটি দেওয়ানী  ডিক্রি মোকাদ্দমা (নং ০২-২০২০) দায়ের করেন। যা ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর রায় ও আদেশে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ এবং মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা  অধিদপ্তরকে ডিক্রিদারীর (বাদী) সমুদয় প্রাপ্য প্রদানের নির্দেশনা দেন।

জনবল কাঠামো অনুসারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন-ভাতা বকেয়া হওয়ার মূল কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং বাদীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। যা জনবল কাঠামো ২০১৮ এর ১৮.৬ ধারা অনুসারে প্রতিষ্ঠানের সৃষ্ট মামলার কারণে বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ উত্তোলন করা সম্ভব না হলে পরবর্তীত বকেয়া হিসাবে তা এমপিও খাত থেকে উত্তোলন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই আর্থিক দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে।

এ বিষয়ে নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইলে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি কোনো নির্দেশনা এখনো হাতে পাইনি। তবে ইতোমধ্যে কলেজের গভর্নিং বডি ইংরেজি প্রভাষক আইয়ুব আবেদেন চৌধুরীকে শিক্ষকতার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ও বেতন-ভাতাদি গ্রহণের ব্যবস্থা করেছেন। বকেয়া বেতন ও জনবল কাঠামো ২০১৮ এর ১৮.৬ ধারা সম্পর্কে তিনি  মন্তব্য করেতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সদ্য প্রকাশিত জনবল কাঠামো ২০২১ এর ১৮.৬ ধারা সম্পর্কে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি, বাকশিস’র চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষা গবেষক, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জনবল কাঠামো ২০১৮ এর ১৮.৬ ধারাটি ২০২১ এর ১৮.৬ ধারাটি অপরিবর্তিত থাকায় এ ধারাটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের ঠকানোর একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। তাই এ ধারাটি বাতিল করে প্রতিষ্ঠানের সৃষ্ট মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ বকেয়া হিসাবে তা এমপিও খাত থেকেই উত্তোলনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

২৬ এপ্রিল, ২০২১।