স্বাস্থ্যকর্মী যখন ঠিকাদার!
স্টাফ রিপোর্টার
ঠিকাদারী নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গত ৬ মাসে একদিনও অফিসে যাননি তিনি, তবুও বেতন উত্তোলন করছেন নিয়মিত। এমনটা করছেন মতলব উত্তর উপজেলার বড় মরাদোন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী শাহ জালাল। তার অফিসে গিয়ে দেখা যায় দৈনিক হাজিরা খাতায় গত ৬ মাসে (নভেম্বর থেকে অধ্যাবদি) তার কোন স্বাক্ষর নেই। নভেম্বরের আগের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তা আর দেখাতে পারেনি তারা। হয়তো সেখানেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যাবে না।
সরকারি চাকরি করেও তিনি এ উপজেলার একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার। গত ১২ বছরে তিনি অন্তত ৩০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তার স্ত্রীর ‘রিজভিআপ’ নামের লাইসেন্সে তেমন কাজ করেন না, তিনি সরকারি দলের প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারের লাইসেন্সে কাজ করেন। কখনোবা করেন সরকারি দলের প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদারদের সাথে পার্টনারশিপে কাজ। তবে কাজ দেখাশুনাতে তিনি থাকেন খুবই ব্যস্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তারাই জানেন শাহ জালাল নিয়মিত অফিস করে না বরং ঠিকাদারী নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু তার প্রভাবের কারণে এ বিষয়ে কখনো কেউ মুখ খুলেন না।
২০১২ সালে তৎসময়ের স্থানীয় এমপি’র অলিখিত এপিএস পরিচয়ে এই স্বাস্থ্য সহকারী শাহ জালাল নিজের কমিউনিটি ক্লিনিকে অফিস না করে তখন এলজিইডি, পিআইও সেকশনের কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করার নামে নিয়মিত উপজেলাতেই থাকতেন। তখন এ বিষয়ে এক সংবাদকর্মী তার বিষয়ে সংবাদ করতে চাইলে তখনকার এই স্বাস্থ্য সহকারী শাহজালাল কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে ৩ সংবাদকর্মীর সাথে অশোভন আচরণ করার কারণে কেউ আর তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে সাহস করেনি। সেই স্বাস্থ্য সহকারীর প্রভাব যেনো দিন-দিন বেড়েই চলছে। কৌশল হিসাবে তিনি যে যখন ক্ষমতায় আসেন তিনি সেই ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থাকেন।
কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার আওতায় থাকা আবু বকর, মরিয়ম, জিলানীসহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা এই কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী শাহ জালালকে চিনেনই না। তবে এখানে কর্মরত বাকিদের চিনেন বলে জানান। স্বাস্থ্য সহকারী শাহ জালালের কয়েকজন সহকর্মীর সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানায়, আমরা একসাথেই চাকরিতে যোগদান করি। প্রথম থেকেই ও একটু বেপরোয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে চলে। আমারা অফিস করলেও ওর অফিস করতে হয় না। এমনকি ওর ভাগ্যের চাকা এতই ঘুরেছে গত কয়েক বছরে ও কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।
গত ৬ মাস অফিসে আসেননি, দৈনিক হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর নেই এবং সরকারি চাকরি করে তিনি কিভাবে ঠিকাদারী করেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন জানান, শাহ জালাল অফিসে আসে না এবং ঠিকাদারী করে- দুটোই আমি জানি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো, তবে তার পক্ষে অনেক তদবির আসে। তার অনিয়মের কথা সিভিল সার্জন স্যারও জানেন।
স্বাস্থ্য সহকারী শাহ জালালের ঠিকাদারী করার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপুর বাড়ি ঠিকাদার শাহজালালের এই মুহূর্তে দুইটি কাজ চলমান। একটি কালিপুর বাজারের মার্কেট, অপরটি দুর্গাপুরের দাশের বাজার মার্কেট। দুইটি কাজের অর্থ মূল্য ৩ কোটি টাকা। তবে ঠিকাদার শাহ জালাল যে স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করেন তাও তিনি জানেন বলে জানান।
অভিযুক্ত স্বাস্থ্য সহকারী শাহ জালালের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি তার কর্মস্থল সম্পর্কে এলোমেলো উত্তর দেন। তবে তিনি যে এই মুহূর্তে ৩ কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ করছেন তা অপকটে স্বীকার করেন।
২৬ এপ্রিল, ২০২১।
