মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তর উপজেলার ফুটপাতগুলো এখন জমজমাট শীতের পিঠার পসরায়। মৌসুমী দোকানিরা সকাল সন্ধ্যায় ফুটপাতে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছেন। হরেক রকম পিঠার স্বাদ নিতে ক্রেতারাও ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে। ব্যস্ত শহরজীবনে বাসা বাড়িতে এসব পিঠা তৈরি করতে না পারলেও এসব পিঠাতেই স্বাদ মিটাচ্ছেন তারা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এখন ছড়িয়ে পড়েছে শহরেও তবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের প্রতিও নজর রাখা দরকার।
শীতের শুরুতেই মতলব উত্তরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে পিঠা বিক্রেতারা। চিতই, ভাপা ও পাটি সাপটা পিঠা ব্যবসা জমে উঠেছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। উপজেলার বাজারের গুরুত্বপূর্ন স্থান, রাস্তার পাশে দেখা যাচ্ছে চিতই ও ভাপা পিঠার দোকানের সমারোহ।
অস্থায়ী এসব দোকানগুলোতে রমরমা বেঁচাকেনা চলছে চিতই, ভাপাসহ নানা রকমের শীতকালীন পিঠা। নানা শ্রেণির লোকজন ভীড় জমাচ্ছে এসব দোকানগুলোতে। মনে আনন্দে শীতের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করছে ক্রেতারা। এবার অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই মতলব উত্তরে শীতের আভাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীতের আগমনকে সামনে রেখে মতলব উত্তরে পিঠা ব্যবসায়ীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করেছে তাদের ব্যবসা। বিশেষ করে উপজেলার রাস্তার মোড়, আশেপাশের বিভিন্ন এলাকাগুলোতে অসংখ্য পিঠার দোকান বসেছে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবার বিকেল থেকে রাত ১০/১১ পর্যন্ত ধুমধামভাবে বেঁচাকেনা হচ্ছে এ সকল দোকানগুলোতে। পিঠার সাথে থাকছে ধনে পাতার চাটনী, মরিচ ও সুটকিসহ নানারকম ভর্তা। প্রতিটি চিতই পিঠা বিক্রয় হচ্ছে ৫ টাকা করে। আর ভাপা পিঠা ১০ টাকা। চালের গুঁড়ো, গুঁড় আর কোড়া নারিকেল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০টির বেশি পিঠার দোকান বসেছে বলে জানা যায়।
উপজেলার ছেংগারচর বাজার, কালিপুর, কালীরবাজার, এলখলাছপুর, মোহনপুর, নতুনবাজার, সুজাতপুর বাজার, বদরপুর, গজরা বাজারসহ উপজেলা বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় এসব ছোট বড় পিঠার দোকান দেয়া হয়েছে।
পিঠা খেতে আসা ৯ বছরের শিশু মুনতাসিন মাহি বলেন, শীতের পিঠা খেতে খুবই মজার। অন্য এক ক্রেতা স্কুল শিক্ষক হুমায়ুন কবীর জানান, এসব পিঠা এখন বাসা বাড়িতে আর তৈরি হয় না। তাই শীতের স্বাদ গ্রহণ করতে ছুটে এসেছি পিঠার দোকানে।
ছেংগারচর বাজারের চাররাস্তা মোড়ে পিঠা বিক্রেতা মিলি বেগমের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে শীতের মৌসুমে পিঠার বিক্রি বেশি হয়। তাই শীতের শুরুতেই দোকান নিয়ে বসেছি।

