সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চাঁদপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার
সারা পৃথিবীর মুসলিমদের জন্যে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এদিক থেকে ঈদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, উদ্ভাসিত হয় ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয়। অথচ এবারই প্রথম ভিন্নরকম ঈদ উৎযাপনের সাক্ষী হয়েছে পুরো মুসলিম বিশ্ব। যার কারণ বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস নামের অদৃশ্য অসুখ। যা ইতেপামধ্যে সমগ্র পৃথিবীকে ধমকে দিয়েছে। ঘরবন্ধী করে রাখছে মানুষদের। এতে করে মানুষের মাঝেও নেই তেমন কোনো ঈদ প্রস্তুতি বা ঈদের আমেজ। মানুষ এখন মরণব্যাধী এই মহামারী থেকে বাঁচার কৌশল নিয়েই ব্যস্ত।
সোমবার (২৫ মে) সারা দেশের মতো চাঁদপুর জেলার সব মসজিদগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদ কমিটি একাধিক জামাতের ব্যবস্থা করেছে। নামাজ শেষে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। নামাজ ও দোয়া শেষে কোলাকুলি করতে দেখা যায়নি মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে। নামাজ শেষে কেউ বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বা বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরিও করতে যায়নি।
বাংলাদেশে ঈদে সাধারণত মানুষ ঘরমুখো হয়। দেশের মহাসড়কগুলোতে নামে মানুষের ঢল। ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে লাখ-লাখ মানুষ গ্রামে ছুটে যান এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সময়টা কাটান। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন, একে অন্যের সাথে। যুগ যুগ ধরে এই সংস্কৃতি চলে আসছে। কিন্তু এবার তাতে আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস মহামারি। তাই উৎসব নয়, প্রার্থনাময় ঈদ যাপনের প্রস্তুত হচ্ছে সমগ্র মুসলিম দুনিয়া।
এদিকে করোনার সংক্রমন ঠেকাতে দেরিতে হলে কঠোর হয়েছে সরকার। গেল আড়াই মাস ধরে সারা দেশে চলছে লকডাউন। দোকান-পাট বন্ধ ছাড়াও মানুষের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ঈদ নিয়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের সময় মানুষের যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথাও সরকার তুলে ধরছে।
গত ১৬ মে পর্যন্ত যে সাধারণ ছুটি ছিলো তার মেয়াদ ঈদের পরে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে ঈদের আগে এবং পরের ৭ দিন সারাদেশে সড়ক এবং নৌপথে যাত্রীবাহী সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। এমনকি ঈদের সময় ব্যক্তিগত যানবাহনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে সরকারি নির্দেশনা মেনে এবারে ঈদের জামায়াতগুলো সীমিত পরিসরে মসজিদে অনুিষ্ঠত হয়েছে। মুসল্লি বেশি হওয়ার কোনো কোনো মসজিদে কয়েক ভাগে জামায়াত হয়েছে।

২৬ মে, ২০২০।