হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জের সিহিরচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাত্র ৮০ মিটার বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। দেয়াল নির্মাণের আবেদন জানিয়ে ছয়মাস আগে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন প্রধান শিক্ষক।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলার কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ-ধড্ডা-চৌমুহনী (কচুয়া) সড়কের পাশে সিহিরচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়টির সড়কের পাশে অর্ধেক বাউন্ডারি দেয়াল রয়েছে, আর অর্ধেক পাকা। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত সিএনজিচালিত স্কুটার, অটোরিক্সা ও ছোট যানবাহন চলাচল করে। বিদ্যালয়ে শুরুর আগে এবং দুপুরের খাবারের সময়ে শিশু শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করে থাকে। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা মনের অজান্তেই দৌঁড়ে সড়কের উপর চলে যায়। এতে প্রায় সময় ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
শিক্ষার্থীদের এ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেতে ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সড়কের পাশে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা এবং বিদ্যালয় ছুটি সময় ওই বেড়ার ফাঁক দিয়ে আসা-যাওয়ার করে থাকে। যার ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১১৬ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, বিশিষ্ট শিল্পপতি সিআইপি মো. জয়নাল আবেদীন মজুমদার। তিনি ভূমিদানসহ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা, পোশাক, ব্যাগ, জুতা, বইসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কাব-স্কাউটসহ বিভিন্ন বিষয়েও সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন। তার আন্তরিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
কামাল হোসেন নামের একজন অভিভাবক জানান, সড়কের পাশে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। অর্ধেক বাউন্ডারি দেয়াল রয়েছে। বাকিটুকুও সহসায় করা প্রয়োজন। কারণ, শিশুদের দুরান্তপনায় যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জুলফিকার আলী মজুমদার জানান, সড়কের পাশে অর্ধেক বাউন্ডারি দেয়াল রয়েছে। বাকি অর্ধেক এবং বিদ্যালয়ের উত্তর পাশসহ প্রায় ২৫০ ফুট (প্রায় ৮০ মিটার) বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ছয়মাস আগে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেছি।
তিনি বলেন, শিশু শিক্ষার্থীরা লেজার টাইমে ছুটোছুটি করে। প্রায় সময় সড়কের উপর চলে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশংকা থাকি। তাই সম্প্রতি সময়ে আমরা বাঁশের বেড়া দিয়েছি। দেখা যায়, এ বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তারা শিক্ষার্থীরা সড়কে চলে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) একেএম মিজানুর রহমান জানান, সব বিদ্যালয়ের চাহিদাপত্র এবং তথ্যাদি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত আপডেট তথ্য প্রেরণ করছি। তিনি বলেন, গত এবং চলতি অর্থ-বছরে বেশ কিছু বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে এ বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা হবে।
