সুজিত রায় নন্দী আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

এস এম সোহেল
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান সুজিত রায় নন্দী। তিনি আগের কমিটিতে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালের ২০তম কাউন্সিলে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সুজিত রায় নন্দী। তারপর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকে হয়নি। ২০১৯ সালে ২১ তম কাউন্সিলে দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হন তিনি। গতকাল শনিবার ২০২২ সালের ২১তম কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন করেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তার আগে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। একই সময় দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জাতীয় পতাকা এবং সাধারণ সম্পাদক দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় পরিবেশন করা হয় জাতীয় সঙ্গীত।
পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য রাখেন।
সুজিত রায় নন্দী বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ নবনির্বাচিত কমিটির সবাইকে অভিনন্দন। আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ায় অর্পিত দায়িত্ব পালনে সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
উল্লেখ্য, সুজিত রায় নন্দী ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে পিতা কাসিশ্বর রায় নন্দী ও মা হিরণ প্রভা রায় নন্দীর কোল আলোকিত করে ভূমিষ্ঠ হন। সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এ তরুণ রাজনীতিবিদ। প্রচারবিমুখ এ মানুষটি ফরাক্কাবাদ হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বর্ণাঢ্য তার রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ অলঙ্কিত করে চলেছেন।
১৯৮৪ সালে নিজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে ঢাকার জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগ প্রচার সম্পাদক, ৮৯/৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাঃবিঃ জগন্নাথ হলের এজিসি ও পরে জিসি নির্বাচিত হন। ১৯৯২ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক, ১৯৯৪ ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক নির্বাচিত হন।
তার এই বর্ণাঢ্য রাজনীতিকে ঘিরে রয়েছে নানা ত্যাগ-তিতিক্ষা। ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে ছাত্রলীগের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০০৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে পুনরায় আবার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ২২ জনের মাঝে সুজিত রায় নন্দীকে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন।
সুজিত রায় নন্দী শুধু রাজনীতিক ব্যক্তিত্বই নন, তিনি একাধারে সমাজসেবক, দানবীরও বটে। তার এলাকা তথা চাঁদপুরবাসী দাদা বলে এক নামে সম্বোধন করেন এই গুণী ব্যক্তিত্বকে। নিজের এলাকা ফরাক্কাবাদে প্রতিষ্ঠা করেন ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ। চাঁদপুর সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। কুমুরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, বালিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক। ফরাক্কাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসার উপদেষ্টা। ঢাঃবিঃ ও জগন্নাথ হলের এ্যালমোনাই এ্যাসোসিয়শনের সদস্য।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য, চাঁদপুর জেলা সমিতির আজীবন সদস্য। এছাড়া নানা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতি- সব কিছুতে তার অবদান অনস্বীকার্য।

২৫ ডিসেম্বর, ২০২২।