সেক্টর কমাণ্ডার আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নবী নোমান
নিজ জন্মস্থান ফরিদগঞ্জের চান্দ্রায় ব্যাপক আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের কমাণ্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদগঞ্জে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মরহুমের জন্মস্থান উপজেলার চান্দ্রায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। পরে সেক্টর কমাণ্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক সিনিয়র সচিব মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একজন আদর্শবান, নিরাংহকারী, সৎ এবং বিশুদ্ধ চরিত্রের মানুষ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের কমাণ্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী। আমরা ভাগ্যবান, তাঁর মতো একজন মানুষের জন্মস্থান আমাদের ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান এই জাতি চিরদিন মনে রাখবেন। তার সান্নিধ্যে যারা পেয়েছেন, তারাই জানেন তিনি কি ধরনের লোক ছিলেন। আমরা এই কিংবদন্তী মানুষটিকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারিনি। শেষ সময়ে এসে স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেও আরো অনেক কিছুরই দাবিদার ছিলেন তিনি। বিজেএমসিরর চেয়ারম্যান এবং জেল পরিষদ প্রশাসক ছাড়া এই অকুতভয় ব্যক্তিটি রাষ্ট্রীয় আর কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি। বস্তুত তিনি নিজে কখনই কোন কিছু চাননি। তার জীবিত থাকাকালে তার জন্য কোন কিছু না করতে পারলেও তার মৃত্যুর পর আমরা যেন নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরের কমাণ্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বগাঁথার কথা তুলে ধরতে পারি, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষ অতিথি যুগ্ম-সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা হয়ত এদেশে আমার মতো আরো সরকার কর্মকর্তা, পুলিশ বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি এই উপজেলা থেকে ভবিষ্যতে পাবো। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমাণ্ডার আর কখনো পাবো না। তাই এইসব মহান স্বাধীনতার সূর্য সন্তানদের অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখতে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। তবেই তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।
তিনি এসময় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে নিয়ে এসে মঞ্চে ও সামনের দর্শকসারীতে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট দিয়ে সম্মাননা জানান।
সংগঠনের আহ্বায়ক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার সহিদ উল্যা তপদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আহসান হাবিব নেভীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. হারুনুর রশিদ সাগর, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তছলিম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমাণ্ডার রোটারিয়ান মহসীন পাঠান, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. নাজমুন নাহার অনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. মোহাম্মদ আলী, বিআরডিবির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজি কামরুল হাসান সাউদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. শাহ আলম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু মিয়া স্বর্ণকার ও সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন বকাউল এবং চান্দ্রা ইমাম আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকবুল আহমেদ। আলোচনা শেষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২।