সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত মতলব উত্তরের লিটনের দাফন সম্পন্ন

মনিরুল ইসলাম মনির
সৌদি আরবে ওমরা পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন সৌদি প্রবাসী মতলব উত্তর উপজেলার রাজুরকান্দি গ্রামের মো. লিটন মিয়া (৩০) এর লাশ দীর্ঘ ২৬ দিন পর ফিরে পেলেন স্বজনরা।
গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ বিমানযোগে তার লাশ ঢাকার হযরত শাহ জালাল বিমানবন্দরে পৌঁছে দুর্ঘটনায় নিহত মো. লিটন মিয়া (৩০) এর লাশ। পরে লাশবাহী গাড়িতে করে লাশ তার গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের রাজুরকান্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এসময় স্বজনদের হারানোর আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় সময় নিজ বাড়িতে মো. লিটন মিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর মো. লিটন মিয়াকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওমরা করে কর্মস্থলে ফেরার পথে সৌদি আরব প্রবাসী মো. লিটন মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
লিটন সৌদি আরবের দাম্মাম আল যুবায়েল শহরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ওমরাহ হজ পালনের জন্য মক্কায় যান। ওমরা হজ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে তার বহন করা গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পাথরের পাহাড়ারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। দীর্ঘ ২৫ দিন অপেক্ষার পর তার মরদেহ বুধবার রাত ১০টার সময় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এবং সৌদি আরব থেকে লাশবাহী বিমানটি বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তাদের পরিবার লাশ ও আর্থিক অনুদান গ্রহণ করে। নিহত লিটনের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের রাজুরকান্দিা গ্রামে। তিনি ওই এলাকায় চাঁন মিয়া সরকারের একমাত্র ছেলে। জীবিকার অন্বেষণে ৬ বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তিনি সৌদি আরব দাম্মাম আল যুবায়েল শহরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এক ভাই-তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন লিটন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনার অনেক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রিয়জনের লাশ কাছে পেলেও চলছে আহাজারি। শোকস্তব্ধ পুরো বাড়ি। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারদিক। তাদের লাশ শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য শত শত মানুষের ঢল নামে।
একমাত্র উপর্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে হারিয়ে বিলাপ করছেন চাঁন মিয়া সরকার। চাঁন মিয়া সরকার বলেন, সৌদিতে পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে তারা আজ নিঃস্ব ও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। বাবা চাঁন মিয়া সরকার লাশবাহী গাড়ী ধরে আহাজারি করছিলেন, আর মা নিলুফা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ।
লিটনের বাবা চাঁন মিয়া সরকার জানান, জায়গা-জমি বিক্রি করে ছয় বছর আগে সৌদি আরবে পাঠাই আমার সন্তানকে। এ বছর ঈদের পর বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু ওমরাহ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে আমার সন্তানের। বিষয়টি তার এক বন্ধু ফোন করে এ খবর জানিয়েছেন। আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিল লিটন। সে বলেছিল, ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করতে টাকা পাঠাবে। কিন্তু তার আগেই আল্লাহ তাকে নিয়ে গেল। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন লাশ দেশে নিয়ে আসার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
লিটনের মা নিলুফা বেগম একবারের জন্য হলেও সন্তানের মুখটা এক নজড় দেখতে পেরে শোকরিয়া আদায় করছি।
রাজুরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. শাহ আলম লস্কর বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে বসবাসকারী বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় লাশ দেশে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার সময় লিটনের লাশ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তার লাশ দেশে নিয়ে আসায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজ আমরা নিহত লিটনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও খরচ করা হয়েছে। আমরা এ অসহায় পরিবারের পাশে আছি।
উল্লেখ্য, নিহত লিটন সৗদি আরব দাম্মাম আল যুবায়েল শহরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত ৮ এপ্রিল ওমরা পালন শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার পথে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। নিহত হওয়ার ২৬ দিনের মাথায় তার মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

০৬ মে, ২০২৩।