সৌদি আরবে যুবকের মানবেতর জীবন

ভিসার দালাল পিতা-মেয়ের খপ্পরে পড়ে

মতলব উত্তর ব্যুরো
মতলব উত্তর উপজেলার গোপালকান্দি গ্রামের গোফরান বেপারীর ছেলে বিল্লাল হোসেন দালালের খপ্পরে পড়ে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে গিয়ে মরুভূমি এলাকায় একটি রুমের মধ্যে বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ খবর পেয়ে তার পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। এ ঘটনায় বিল্লালের পিতা বাদী হয়ে একই গ্রামের মুক্তা বেগম (২৭) ও মুক্তার পিতা আব্দুস ছাত্তার (৫২) এর বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিল্লালকে সৌদি আরব পাঠিয়ে বিবাদী মুক্তা বেগম ভালো ভিসা দিবে এবং ভালো কাজ দিবে বলে তাদেরকে লোভ দেখিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রবাসে পাঠায়। সেখানে গিয়ে বিল্লাল কোন কাজ কর্ম পাচ্ছে না। মরুভূমিতে কোন একটি রুমের মধ্যে বন্দি থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করতে পারছে না। এ বিষয়টি বাদী গোফরান বিবাদীদেরকে জানালে তারা কোন তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া আচরণ করতে থাকে। একাধিকবার আমার ছেলেকে ফেরত পাঠাবে এবং সকল টাকা ফেরত দিবে বললেও তার আর করে না। বেশি কথা বললে বাদীর ছেলেকে কোন চাকুরী দিবে না এবং বাদীর প্রাণনাশের ঘটাবে বলেও হুমকি ধামকি দেয় বিবাদীরা।
বাদী গোফরান বেপারী বলেন, মুক্তা ও তার পিতা ছাত্তার ভিসার দালাল। তারা প্রায় ৫-৭ বছর যাবৎ ভিসার দালালী করে আসছে। আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ফুসলাইয়া টাকা নিয়ে আমার ছেলে বিল্লালকে এসির কাজ দিবে বলে সৌদি আরব পাঠিয়েছে। এখন ওখানে কাজ কর্ম নাই, ঠিক মত খাওয়া দাওয়া নাই। কোন তোয়াক্কা না পেয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এখন আমার ছেলেকে ফেরতসহ সকল টাকা ফেরত চাই।
অভিযোগ পেয়ে মতলব উত্তর থানার এসআই পলাশ বড়ুয়া দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক একটি অভিযোগ পেয়েছি। দুই পক্ষের সাথে আবারো কথা বলে সমাধান হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিবাদী মুক্তা বেগম মুঠোফোনে বলেন, টাকার বিনিময়ে বিল্লালকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছি। ওই দেশে কোম্পানীর কাছে বিল্লাল হেফাজতে আছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাকে কাজ দেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, দারোগা আমাদের দুই পক্ষকে থানায় ডেকেছেন। আশা করি একটা সমাধান হয়ে যাবে।

১৯ মে, ২০২২।