এস এম সোহেল
চাঁদপুরে সাম্প্রতিকালে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিন আগে স্কুল চলাকালীন সময়ে কিশোর গ্যাং কয়েকজন বখাটে শিক্ষার্থী চাঁদপুর সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনার পর পর মডেল থানা পুলিশ হামলাকারীদের আটক করে ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। প্রতিদিন স্কুল চলাকালীন সময় ও সন্ধ্যার পর পুলিশ কিশোর গ্যাংদের ধরতে অভিযান পরিচালিত করছে। তবে প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতামত কিশোর গ্যাং রোধে শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরো সচেতন হতে হবে।
এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিনের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, দিনের বেলা ১২টায় সময় কলেজ ছাত্রের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে স্কুল চলাকালীন সময়ে কি করে এ শিক্ষার্থীরা বাইরে বের হল। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষদের নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ঘটনায় মূল হোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তারই ধারাবহিকতায় নিয়মিত সন্ধ্যায় ও স্কুল চলাকালীন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারই ধারাহিকতায় গত শনিবার ৩৫ জন কিশোরকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এদের সবাইকে সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত অবস্থায় পাওয়া যায়। থানায় সব কিশোরের অভিভাবককে ডেকে এনে মুচলেকা রেখে তাদের স্ব-স্ব অবিভাবদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি বলেন, কোন অবস্থাতেই স্কুল কলেজ চলাকালীন সময়ে ও সন্ধ্যার পরে রাস্তায় কোন কিশোর যেন রাস্তায় আড্ডা না দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে ও সন্ধ্যার রাস্তায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় আড্ডারত অবস্থায় পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে ওসি নাসিম বলেন, অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ আপনার ছেলে-মেয়ে বাসার বাইরে বের হওয়ার পর কোথায় যাচ্ছে তার বিশদ খোঁজ-খবর রাখুন। নিয়মিত স্কুল-কলেজে আপনার সন্তান যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন। কাক ডাকা ভোরে ও সন্ধ্যার পর আপনার মেয়ে সন্তানকে প্রাইভেট কোচি য়ের জন্য পাঠানো বন্ধ করুন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। কোনভাবেই যেন ক্লাশ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী স্কুল/কলেজ ত্যাগ না করে সে বিষয়টি মনিটরিং করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ এবং যেসব শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে অনিয়মিত তাদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সামাজিক সচেতনার প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রোধকল্পে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশের একার পক্ষে শুধু আইন প্রয়োগ করে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সুশীল সমাজ শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদসহ সমাজের সাধারণ জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- স্কুল-কলেজ চলাকালে ও সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের বাইরে পেলেই ব্যবস্থা ………..ওসি নাসিম উদ্দিন
