স্বামীর সাথে অভিমান করে চাঁদপুরে ১ সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরের নাজির পাড়া এলাকায় ১ সন্তানের জননী স্বামীর সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় চাঁদপুর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক পলাশ বড়ুয়া লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠান।
জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মৈশাদী গ্রামের বেপারী বাড়ির মফিজ বেপারীর মেয়ে তাসলিমা বেগম (২০) দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পরিবারের অজান্তে পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার জাজিরা গ্রামের মির্জা বাড়ির বিজয় মির্জার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে বিজয় মির্জা ও তাসলিমা বেগম চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করতো। বিজয় মির্জা দিনমজুরের কাজ করে। এর মধ্যে তাসলিমা একটি সন্তান জন্ম দিলেও জন্মের পরই সন্তানটি মারা যায়। গত কয়েক মাস ধরে বিজয় ও তাসলিমা দম্পতি কালু গাজীর বাসায় ভাড়া থাকে। অভাবের সংসারে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ হত। গত ৩/৪ ধরে তাসলিমার স্বামী বিজয় মির্জা তার মা অসুস্থ থাকায় সে ঢাকাতে অবস্থান করছিল। শুক্রবার রাতে তাসলিমা ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।
তাসলিমার বড় বোন ফাতেমা বেগম শুক্রবার রাতে চাঁদপুরে আসেন। শনিবার সকাল ৮টায় ছোট বোনের বাসায় গেলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তাকে অনেক ডাকাডাকি করে। ঘরের ভেতর থেকে কোন সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় বাসার অন্যান্য লোকজনদের ডেকে ফাতেমা ও তার বোন কুলসুমা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ছোট বোনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে তারা তাসলিমার লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ফেলে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে উপ-পরিদর্শক পলাশ বড়ুয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরবর্তীতে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুর রব, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান দর্জিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।