সড়কের ক্যান্সার ইজিবাইক

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরের বিভিন্ন সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ইজিবাইকের দাপট এখন চরমে। এ কারণে যখন-তখন ঘটছে দুর্ঘটনা। মানুষের চলাচল হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। গত ৬ মাসে ইজিবাইকের ধাক্কায় অন্তত কয়েকশ’ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ইজিবাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা না হলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুতই নিবন্ধনহীন ইজিবাইক জব্দ অভিযান শুরু করা হবে।
ইজিবাইক চালক মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। সব মিলিয়ে পায়ে হেঁটে রাস্তা পারাপার এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি ইজিবাইকের ধাক্কায় আহত হয়েছেন সুফিয়া বেগম। তিনি জানান, রাস্তার পাশের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এই সময় একটি ইজিবাইক অপর একটি ইজিবাইককে অতিক্রম করতে গিয়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে গিয়ে ব্যথা পান।
গত সপ্তাহে রাস্তা পারাপারের সময় ইজিবাইকের ধাক্কায় আহত হয়। আহতরা বলেন, নিবন্ধনহীন ইজিবাইকের চালকেরা খুবই অদক্ষ। এদের নিয়ন্ত্রণকারী কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মতলব উত্তর থানার ওসি মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, ইজিবাইক চলাচলে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায় দিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে ইজিবাইক চালকেরা ধর্মঘট ডেকে বসছে। নিবন্ধনহীন অনেক ইজিবাইক চলাচল করছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ইজিবাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ব্যবস্থা নিলে এই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
ছেংগারচর পৌরসভার সচিব শাহ আবু সুফিয়ান জানান, খুব শিগগিরই নিবন্ধনহীন ইজিবাইক চলাচল রোধে অভিযান শুরু হবে। এছাড়া শহরের ঘনবসতি সংখ্যা নির্ণয় করে ইজিবাইক চলাচল শহরের প্রধান সড়কে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এতে দুর্ঘটনা কমে যাবে।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১।