হাইমচরের মোড়ে-মোড়ে অস্থায়ী কাঁচা বাজারে যানজট

ভোগান্তিতে রোজাদাররা

হাইমচর ব্যুরো
হাইমচর উপজেলা সদর আলগী বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অস্থায়ী মাছ, সবজি ও ফলের দোকান বসছে প্রতিদিন। ফলে অটো, সিএনজি, পিকআপ ভ্যানসহ মালামালের গাড়িতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোজাদারসহ যাতায়াতকারীদের। নির্দিষ্ট স্থানে দোকান বসিয়ে বাজারের সড়কপথ যানজটমুক্ত রাখতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন বাজারের নিয়মিত ক্রেতারা।
গত শুক্রবার দেখা যায়, আলগী বাজারের হাসপাতাল মোড়, সোনালী ব্যাংক মোড়, কাটাখালী রোডসহ মধ্য গলির গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে অস্থায়ী কাঁচা মালের দোকান, মাছ ও ফল ব্যবসায়ীরা দোকান পেতে বসেছে। এতে করে মূল বাজারে থাকা কাঁচা বাজার ও মাছ ব্যবসায়ীরা বেচাকেনায় পড়ছেন বিপাকে। তারাও রাস্তার উপর অস্থায়ী দোকান বসানোর অনুমতি চাচ্ছেন বাজার কমিটির কাছে।
তাদের দাবি- রাস্তার উপর অস্থায়ী দোকানে কাঁচা বাজার, মাছ, সবজি ও ফল পাওয়ায় ক্রেতারা বাজারে আসছেন না। সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় শসা ও লেবুসহ সবকিছু কিনেন ভোক্তারা।
বাজারের কাঁচা মালের ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া জানান, আমরা বাজারের নিয়ম মেনে ব্যবসা করি। আমরা চাইলেই বাজারের মোড়ে-মোড়ে বা রাস্তার উপর অস্থায়ী দোকান বসাতে পারি না। কিন্তু অন্যরা রাস্তার উপর অস্থায়ী দোকান বসিয়ে একদিকে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করছে, অন্যদিকে নিম্নমানের তরকারি বিক্রি করে বাজারের সুনাম ক্ষুণœ করছে।
এদিকে বাজারের দোকান ও মার্কেট মালিকরা বলছেন, মাছ বিক্রির পর নোংরা পানিতে বিশ্রি দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে। কাঁচা বাজার ও শাক-সবজির উচ্ছিষ্ট পঁচে রোজাদারদের উপর বিরূপ প্রভাবসহ বিরক্তির সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট স্থানে কাঁচা বাজার বসালে যানজট নিরসনসহ বাজারের পরিবেশ ঠিক থাকবে।
আলগী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম কোতওয়াল বলেন, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জকে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে কয়েকবার জানানোর পরও দেখছি সমস্যাটির সমাধান হচ্ছে না। অস্থায়ী শাক-সবজি বিক্রেতা ও মাছ ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে এ দোকান বসিয়ে বাজারের সড়কপথে যেমন যানজট সৃষ্টি করে, তেমনি পরিবেশও নষ্ট করে। তাই এটার স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, বাজার ইজারা দেওয়ার সময় উপজেলা প্রশাসন যে নীতিমালা দিয়ে দেন তার কিছুই মানা হয় না। যত্রতত্র সিএনজি ও অটো রেখে যাত্রী ওঠানামা করা, যেখানে সেখানে মাছ ও কাঁচা মাল বিক্রি সবই নিয়ম বহির্ভূত।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরী বলেন, উপজেলা-থানায় প্রবেশের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ বিভিন্ন স্পটে ভ্যানের উপর বা ফুটপাতে বসে বেচা-বিক্রির দায়ে আমরা অনেককে জরিমানা করেছি। মাছ ও সবজি বাজেয়াপ্ত করে পচনশীল বলে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করেছি। তবুও তারা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বেচা-কেনা করছে।
তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করে জেল-জরিমানার মাধ্যমে মোড়গুলোতে বেচা-কেনা বন্ধ করবো।

১০ এপ্রিল, ২০২২।