হাইমচরে কিস্তির টাকা না দেয়ায় গৃহবধূকে আটক

হাইমচর ব্যুরো
হাইমচরে কিস্তির টাকা দিতে না পারায় তিন বছরের শিশুসহ গৃহবধূকে আটকে রেখে মানষিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে সিসিডিএ নামক একটি এনজিওর বিরুদ্ধে। দিনমজুর স্বামী আরিফ খাঁ বেকার হয়ে পড়ায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারেনি হেনা বেগম। কিস্তির টাকা দিতে না পারায় সিসিডিএ প্রোগ্রাম অফিসার জসীম উদ্দিন বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে আসেন। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অফিস রুমে আটকে রাখেন গৃহবধূ হেনা বেগমকে। পরে সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন অফিসে গেলে আটকে রাখার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে গৃহবধূকে ছেড়ে দেন তিনি।
সিসিডিএ প্রোগ্রাম অফিসার জসীম উদ্দিন বলেন, অটো ক্রয় করার জন্য হেনা বেগম ও তার স্বামীকে ৫০ হাজার টাকা লোন দেই। তারা টাকা নেয়ার পর ২০টি কিস্তি দেয়ার পর কিস্তি দেয়া বন্ধ করে দেয়। কিস্তি না দিয়ে তার স্বামী পালিয়ে বেড়ায়। তাকে না পেয়ে তার বাড়ি থেকে তার স্ত্রী হেনা বেগমকে আমার সাথে করে অফিসে নিয়ে আসি। যাতে করে তার স্বামী কিংবা তার পরিবারের লোকজন কিস্তির টাকার জিম্মা নিয়ে তাকে নিয়ে যায়। গ্রাহককে আটকে রাখার জন্য অফিসে নিয়ে আসি না।
হেনা বেগম বলেন, আমি গত ৬ মাস আগে সিসিডিএ এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন নেই। ২০ কিস্তি চালানোর পরে আমার স্বামী বেকার থাকায় কিস্তি চালাতে পারি না। আজ কিস্তির অফিসার জসীম উদ্দিন আমার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে আমি দিতে না পারায় আমাকে তাদের অফিসে এনে আটকে রেখে গালমন্দ করে থানায় আটকে রাখার হুমকি দেয়।
আমি ওনাদের হাত ধরে বলি, স্যার আমার কাছে ৫শ’ টাকা আছে। টাকাটা রেখে ছেড়ে দেন, আমার শিশুটা ক্ষুধায় কষ্ট পাইতেছে, আমাদের যেতে দেন। ওনি বলেন, তোর স্বামী বা পরিবারের লোকজন টাকা না নিয়ে আসলে তোকে ছাড়া যাবে না।

১১ এপ্রিল, ২০২২।