
সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচরের মধ্য ভিঙ্গুলিয়া মসিজদ হতে রাতের আঁধারে নিখোঁজ হওয়া ইমাম আশ্রাফ আলী কাউছারকে চট্টগ্রাম হাটহাজারী রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার চাঁদপুর সদর মডেল থানা ও চট্টগ্রাম হাটহাজারী থানা পুলিশের যৌথ সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ইমাম তার বাবার কাছ থেকে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে নিজেকে অপহরণকারী সাজাতে চট্টগ্রাম চলে যান।
জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের দোকানঘর এলাকার মাও. তোয়াহা মিয়ার বড় ছেলে আলগী উত্তর ইউনিয়নের মধ্য ভিঙ্গুলিয়া আল-আজিজিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাও. মো. আশ্রাফ আলী কাউছার গত বুধবার গভীর রাতে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর থকে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও তার বাবা হাইমচর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তাকে হন্নে হয়ে খোঁজ করতে থাকেন তার পরিবারের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার ইমামের বাবা তোয়াহা মিয়ার কাছে তার ছেলে কাউছারের মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এসএমএসে বলা হয় দাবিকৃত টাকা পেলে তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হবে। তোয়া মিয়া চাঁদপুর মডেল থানাকে বিষয়টি জানালে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ও চট্টগ্রাম হাটহাজারি থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় তোয়াহা মিয়া তার ছেলে আশ্রাফ আলী কাউছারকে হাইমচর থানায় নিয়ে আসেন।
আশ্রাফ আলী সাংবাদিকদের জানান, তিনি একজন ভাল গাড়ি চালক। তিনি মসজিদের ৬ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি গাড়ি ক্রয় করার জন্য তার বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছেন। টাকা না দেয়ায় অপহরণ হয়েছে মর্মে নাটক সাজাতে বুধবার রাত অনুমানিক ১২টায় তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকা যান। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন গিয়ে তার বাবার মোবাইলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে এসএমএস পাঠান।
উল্লেখ্য, ইমাম আশ্রাফ আলী কাউছারের নিখোঁজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে পুরো উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাতেও। আতংকের সৃষ্টি হয় জনমনে। তাকে উদ্ধারের পর হাইমচরের গুজব নাটকের অবসান ঘটেছে। জনমতে ফিরে এসেছে স্বস্তির বাতাস।
২৮ জুলাই, ২০১৯।
