হাইমচরে বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে কৃষক

খালে পানি না থাকায়

সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচরে খালে সেচের পানি না থাকায় বোরো আবাদ ধান চাষ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। কিছু কিছু জায়গায় পুকুরের পানি দিয়ে ধানের বীজ রোপণ করলেও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। এতে করে ফেটে যাওয়া জমির মত দঃখে কষ্টে ফেটে যাচ্ছে কৃষকদের হৃদয়। ধানের বীজ রোপণ করার সময় শেষ হয়ে গেলেও খালে নেই পানি। কবে কখন পানি আসবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন শেষ নেই তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ঠিকাদারের মাধ্যমে হাইমচরের দু’টি খাল খনন করা হচ্ছে। এছাড়া ফরিদগঞ্জে খালের মুখ বন্ধ করে খাল খনন করার কারণে হাইমচরের খালগুলোতে পানি আসার পথ বন্ধ হয়ে আছে। যার ফলে চরম দুর্ভোগ ও হতাশার মধ্যে রয়েছে বোরো আবাদকারী কৃষকরা।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার রামপুর বাজার সংলগ্ন নজির চেয়ারম্যান পোলের সামনে ডাকাতিয়া নদী থেকে আসা খালের মুখে বাঁধ দেওয়া স্থান সম্প্রতি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
কমলাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান খান বলেন, খালে পানি না থাকাতে আমরা ফসল করতে পারিনি। জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বোরো ধান রোপণ করবো, কিন্তু পানি পাচ্ছি না। এখন আমরা খুবই কষ্টে আছি সামনের দিনগুলোতে যে আমরা কি খাবো বা কিভাবে জীবন বাঁচাবো দিশেহারা হয়ে গিয়েছি। যদি আমাদের দ্রুত পানি দেয় তাহলে আমরা বোরো ধান রোপণ করতে পারবো। আমাদের জীবনটুকু বাঁচাতে পারবো।
স্থানীয় আরো বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালে পানি না থাকার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এতে করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাদের এই দুর্দশা অব্যাহত থাকবে।
তারা আরো বলেন, এই খাল খননটি সঠিকভাবে হচ্ছে না। খালের এক পাশ কাটা হচ্ছে অন্যপাশ কাটা হচ্ছে না। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কৃষকরা দ্রুত পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
চাঁদপুর পওর শাখা-৩, হাইমচর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসান গাজী বলেন, হাইমচর উপজেলায় আমরা দুটি খাল খনন করছি। খালগুলো হচ্ছে- ডব্লিউওয়াইসি এবং বিফিফাইভ। বিফি ফাইভ খালটি হচ্ছে কমলাপুর থেকে মহজমপুর ব্রিজ পর্যন্ত, ৩ দশমিক ১৮৫ কিলোমিটার। ডব্লিউওয়াইসি খাল টেককান্দি থেকে জনতা বাজার পর্যন্ত ২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এই দুটি খাল হচ্ছে হাইমচর উপজেলার প্রধান খাল। কাজ করতে গেলে কিছু প্রতিবন্ধকতা আসে, আমরা সেই প্রতিবন্ধকতা রেখে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি ২/৪ দিনের মধ্যে খালের খনন কাজ শেষ হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার বলেন, বোরো মৌসুমে আমার কৃষক ভাইদের বোরো আবাদ করতে তাদের পানির প্রয়োজন হয়। আমাদের হাইমচরে যে দুটি খাল রয়েছে সে খালগুলোতে দ্রুত পানি দেওয়ার জন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। তাদের খাল খননের কাজের কারণে আমাদের পানি বিঘ্নিত হচ্ছে। সঠিক সময়ে যদি কৃষকরা পানি না পায় বোরো আবাদ বিঘ্নিত হবে। দ্রুত সময়ে যেন কৃষকরা পানি পায় সেজন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্বিতীয়বারও চিঠি প্রদান করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা বলেন, আমরা বেশ কয়েকদিন যাবত অভিযোগ পেয়ে আসছি বিফিফাইভ খালটি খননে অনিয়ম হচ্ছে। তাই আমি খাল খননের স্থানে পরিদর্শনে গিয়েছি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলে দিয়েছি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল খনন শেষ করেন এবং সঠিকভাবে খাল খননটি করেন। আমি আশা করি এই খাল খননের মাধ্যমে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে এবং উপজেলার বিভিন্ন স্থানের জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।