অনুমোদন ছাড়াই চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচরে ব্যাঙের ছাতার মত বেড়েই চলছে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা। এছাড়া কিন্ডারগার্টেনের পাশাপাশি বেড়ে চলছে প্রাইভেট মাদরাসাও। যার ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন-দিন কমে যাচ্ছে। আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেনের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। হাইমচরে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সদ্য প্রতিষ্ঠিত আল-আকসা মডেল একাডেমি ও নেকসা মডেল একাডেমি।
সরেজমিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাঙ্গা গ্রামে ও উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোন ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চালু করা হয়েছে আল-আকসা মডেল একাডেমি ও নেকসা মডেল একাডেমি নামে দুটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু প্রাইভেট মাদরাসা।
স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও প্রবাসীদের অংশীদার নিয়ে মেঘনা সমবায় সমিতি আল আকসা একাডেমি পরিচালনা করছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। তবে সরকারি পাঠ্যবই না পেয়ে পুরাতন বই দিয়ে পাঠদান করছেন। ছাড়পত্র ছাড়া নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পার্শ¦বর্তী চরভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি করেছেন এই বিদ্যালয়ে। শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি ক্লাস চালু করা হয়েছে। সেমিপাকা বিদ্যালয়টির সম্পত্তি স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জুয়েলের কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য ভাড়া নেয়া হয়েছে। ৮ জন শিক্ষক একাডেমিতে পাঠদান করছেন। ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৯০জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তেই অনুমোদন ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে এটি করা ঠিক হয়নি। তারা অনুমোদনের জন্য এবং পাঠ্যবই পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করবেন। ছাড়পত্র ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে তা সঠিক। তবে এসব শিক্ষার্থী আমাদের পরিচালনা পর্ষদ পরিবারের সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল গাজী জানান, এখানে স্কুল হয়েছে হঠাৎ করে। এলাকাবাসীর সাথে যোগাযোগ করতে দেখিনি। অনুমোদন নেই, এখনই জানতে পারলাম। এদের স্কুল প্রতিষ্ঠার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন হাইমচর উপজেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম জানান, আল-আকসা কিন্ডারগার্টেন একাডেমি হয়েছে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তারা অনুমোদন ছাড়া স্কুল চালুর পাশাপাশি কিছু অনিয়মও শুরু করেছেন। পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র ছাড়া ভর্তি করিয়েছেন সে সম্পর্কে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এটি কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আমাদের সাথে তাদের কোন যোগাযোগ নেই।
হাইমচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিরউজ্জামান জানান, আমরা কোন কিন্ডারগার্টেন অনুমোদন দিতে পারি না। ২০২২ সালে সরকার কোনো প্রকার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করার জন্য জোর দিয়েছেন। কিন্তু তারা আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি না নিয়েই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে। এ বছর তারা পাঠ্য বই পায়নি। বিষয়টি আমি জানতে পেরে দুইজন সহকারী শিক্ষা অফিসারকে কয়েকদিন আগে আল-আকসা মডেল একাডেমি নামে ওই প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছি। মিজানুর রহমান ও জুলফিকার নামে দুইজন শিক্ষা অফিসার তদন্ত করে দেখেছেন বইগুলো পুরনো, তারা কোনভাবে সংগ্রহ করেছে। এ বছরের নতুন কোন বই তাদের দেয়া হয়নি।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাই থোয়াইহলা চৌধুরী জানান, আল-আকসা মডেল একাডেমি নামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার জন্য আবদেন করা হয়নি। কাউকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার অনুমতি দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলতে পারবেন।
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।