সাহেদ হোসেন দিপু
সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। চারদিকে ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, পুলিশ
প্রশাসনও কঠোর ভূমিকা রাখছে এ কিশোর গ্যাং দমনে। সারাদেশের মত হাইমচর উপজেলায়ও তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যাং। বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও এলাকাভিত্তিক মহরা, মারপিট করা, ইভটিজিং করাসহ নানারকম অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে এসব উঠতি বয়সী কিশোররা, যা কিশোর গ্যাং নামেই পরিচিত হয়ে উঠছে।
জানা গেছে, অভিভাবকদের প্রশ্রয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠছে এ কিশোর গ্যাং। এরা নিজ নিজ এলাকায় যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন অপকর্মে। ক্ষমতা সমীহ আদায়, খারাপ কাজ করা এবং এক ধরনের সুরক্ষার আকাক্সক্ষা থেকেই কিশোর তরুণদের গ্যাং তৈরি হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া। এরা নিজ এলাকায় নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে চলে। পিছনে বড় ভাই (নেতা) আছেন মনে করেই অপকর্ম করতে বিন্দু পরিমাণ ভয় পায় না। এরা মাঝে মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে মহড়া দিতেও দেখা যায়। সন্ধ্যার পর হলেই রাস্তার পাশে কিংবা নির্জন জায়গায় গ্রুপে-গ্রুপে আড্ডায় লিপ্ত হয়।
এলাকাবাসীর ধারণা, এরাই রাতের আঁধারে চুরিÑছিনতাইয়ের মত কাজগুলো করে থাকে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। উঠতি বয়সী ছেলেরা কোথায় যায়, কার সাথে আড্ডা দেয় তা নজর রাখা। কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যায় এর উল্টো, ছেলেরা কোন অপকর্ম করে আসলে সর্বপ্রথমে অভিভাকরাই তা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে। কোথাও কোন মারামারি হলে এই অভিভাবকরাই আরো উস্কানি দিয়ে থাকে। যার ফলে এ কিশোররা কিশোর গ্যাংয়ে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এ কিশোররা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর আগেই হাইমচর থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
০৪ মার্চ, ২০২১।
