স্টাফ রিপোর্টার
করোনা ও ওমিক্রন পরিস্থিতিতে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক হাইচমচরে সরকারি স্কুল বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে কিন্ডারগার্টেন। এতে জোর আপত্তি জানিয়েছেন হাইমচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারই ধারাবাহিকতায় হাইমচর উপজেলায় সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে উপজেলা জুড়ে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া হয়। একই সাথে ওমিক্রন ও করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতায় পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল শনিবার উপজেলার সকল সরকারি স্কুল বন্ধ থাকলেও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো খোলা থাকতে দেখা গেছে।
পূর্ব চরকৃষ্ণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক দেশে দুই আইন, কেন? শনিবার সকালে বিদ্যালয় এসে দেখি শিশুরা বিদ্যালয়ে এসে হাজির। আমরা তাদের বাড়ি ফিরিয়ে দিলাম। কিন্তু উপজেলার কিন্ডারগার্টেন ও ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো খোলা। সেখানে কি করোনা নেই? শুধু সরকারি বিদ্যালয়গুলোতেই করোনা আছে?
তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন? তাহলে সরকারি বিদ্যালয়ে যে শিশুরা পড়ে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে কে? তাদের কি উপায় হবে? কোমলমতি শিশুদের আমরা কি জবাব দেবো? আমরা এটার একাটা বিহিত চাই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেখ মো. আবু জাফর বলেন, সরকারি নির্দেশনায় আমরা স্কুল বন্ধ রেখেছি। কিন্তু কিন্ডারগার্টেন খোলা রয়েছে এখনও। কিন্ডারগার্টেন ও এবতেদায়ী মাদ্রাসায় কি করোনা নেই? আমাদের বিদ্যালয়ের শিশুরাও দেখি আজ কিন্ডারগার্টেনে যায়! তিনি বলেন, একই উপজেলায় দুই নিয়ম নয়, একই নিয়মে থাকতে চাই।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম মিজানুর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কিন্ডারগার্টেন এবং ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে যদি কোন কিন্ডারগার্টেন খোলা রাখে তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।
২৩ জানুয়ারি, ২০২২।
