মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
টাকার প্রয়োজন, তাই ছোট ভাই রায়হান এহসান রিহানকে (৬) অপহরণ করে নিয়ে যায় বড় ভাই ফাহাদ এহসান তারেক (২৫)। উদ্দেশ্য
রিহানের কিডনী বিক্রি করে সংগ্রহ করবে সেই টাকা। কিন্তু পুুিলশের কৌশলের কাছে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে শ্রীঘরে গেলেন বড় ভাই ফাহাদ এহসান তারেক। গত মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মকিমাবাদ এলাকায়।
এর আগে সোমবার অভিযুক্তের বাসায় পাওয়া একটি চিঠির সূত্র ধরে অপহরন আর কিডনি বিক্রির বিষয়টি জানতে পারে রায়হান এহসান রিহানের পরিবার। বড় ভাই ফাহাদ এহসান তারেক কিডনি বিক্রির উদ্দেশ্যে ছোট ভাই রিহানকে অপহরণ করে। এর পরেই পুলিশের দারস্থ হন এই সহোদরের বাবা মো. আবু তাহের। এদিন রাতেই কৌশলে বড় ভাই তারেককে আটক ও রিহানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
উদ্ধারকৃত চিঠিতে তারেক উল্লেখ করেন, আমি শুধু এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আমি সেদিন কিডনি বিক্রি করেছিলাম। ঠিক এদিন (ওইদিন) থেকে আপনারা আমার অবহেলা করা শুরু করছেন। অথচ আপনাদের অত্যাচারে আমি বাধ্য হয়েছি, নিজের অঙ্গ বিক্রি করতে। আপনারা আমার জীবনের সব শেষ করে দিয়েছেন। আমার স্ত্রী অন্যের বিছানায় সঙ্গী শুধু আপনাদের জন্য। আমার সন্তানের মুখ পর্যন্ত আমি আজও দেখি নাই।
আমার জীবন নষ্ট করে আপনারা শান্তিতে থাকবেন। ভাবলেন কিভাবে। আমি এতদিন অপেক্ষা করেছি। আপনাদের হাতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আপনারা আমার কোন ব্যবস্থা করে দেন নাই। আপনার সন্তান যেখানে বেকার সেখানে আপনারা হিন্দুর সন্তানকে ২০ লাখ টাকা দেন ব্যবসা করার জন্য। আপনাদের টাকা-পয়সা মানুষের জন্য। এতদিন কোনো বাচ্চা পেশেন্ট পাই নাই। তাই আপনাদের সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি।
আমার মত এবার আপনাদের ছোট ছেলে কিডনি দিবে। আপনারা আমার ব্যবস্থা করেন নাই তাই এটা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না। আপনারা আপনাদের টাকা-পয়সা নিয়েই থাকেন। মানুষের ছেলেদের এই বড় বানান। আমার কিডনি বিক্রির সময় যেমন কিছু করতে পারেন নাই। এবারও পারবেন না, আপনাদের ছোট ছেলের সময়।
এরপর তারেকের এই চিঠির সূত্র ধরেই হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন, তারেকের বাবা মো. আবু তাহের। তারপর ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি নির্দেশনায় রিহানকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ। তারেককে ৫ লাখ টাকার লোভ দেখিয়ে টোপ দেয় পুলিশ। সেই টোপে ধরা দেয় সে। অবশেষে থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই মোশারফ হোসেন রিহানকে উদ্ধারপূর্বক তারেককে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
এদিকে আটক তারেকের মা ফরিদা সুলতানা শিখা সংবাদর্মীদের জানান, আমার বড় ছেলে তার ছোট ভাইয়ের সাথে এমন আচরণ করবে, এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি।
পুলিশের হাতে আটক তারেক জানান, আমি আমার ছোট ভাইকে অপহরণ করেছি শুধুমাত্র টাকার জন্য। কিডনি বিক্রয়ের কথাটি চিঠিতে লিখে আমার মা-বাবাকে আমি ভয় দেখিয়ে ছিলাম।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি জানান, অপহরণকারী ফাহাদ এহসান তারেককে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অপহৃত রায়হান এহসান রিহানকে তার বাবা মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
