দৈনিক ইলশেপাড়ে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর!
স্টাফ রিপোর্টার
হাজীগঞ্জ রামচন্দ্রপুর কাসেমিয়া ছিদ্দিকিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সফিকুর রহমানের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
প্রমাণিত হওয়ায় বিধি মোতাবেক আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে নির্দেশ প্রদান করেছে ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামি আরবী বিশ^বিদ্যালয়।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৯ জুলাই দৈনিক ইলশেপাড়ে অধ্যক্ষের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক অধ্যক্ষকে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। এরপর শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে তদন্তে আসেন চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক। সে সময়েই অধ্যক্ষ সফিকুর রহমানের দুর্নীতির সত্যতা পান এবং মাদ্রাসা সভাপতি আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উদ্যোগ নেন কিন্তু সে সময়ে। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির মেয়াদ কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
এরপর আবার রামচন্দ্রপুর কাসেমিয়া ছিদ্দিকিয়া ফাযিল মাদ্রাসার দুইজন শিক্ষক কর্তৃক অধ্যক্ষ সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ইসলামি আরবী বিশ^বিদ্যালয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। ঐ দু’জন শিক্ষকের দাখিলকৃত অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে ইসলামি আরবী বিশ^বিদ্যালয় হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে গত ০৯ ডিসেম্বর ২০২০খ্রি. একটি তদন্ত প্রতিবেদন ইসলামি আরবী বিশ^বিদ্যালয়ে প্রেরণ করেন। সে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান ছাত্রাবাস নির্মাণে অনিয়ম, ছাত্রীদের জন্য নির্মিত মসজিদের খরচের হিসাবের অনিয়ম, মাদ্রাসার আয় ব্যয়ের হিসাবে অনিয়ম, সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত পাঠ্যবই ব্যবহারের পরিবর্তে নিয়ম বহির্ভূত গাইড ব্যবহারের প্রবণতাসহ মহান বিজয় দিবস সম্পর্কে অবাঞ্চিত মন্তব্য প্রদানের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হয়েছে।
সে তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকেই গত ২৪ জানুয়ারি ইসলামি আরবী বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অধ্যক্ষ সফিকুর রহমানের দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য রামচন্দ্রপুর কাসেমিয়া ছিদ্দিকিয়া ফাযিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে নির্দেশ প্রদান করেন। যার স্মারক নং ইআবি/রেজি/প্রশা/ফা.গ.ব./চ-৩৩/২০১৭/৭৭২(১০ মাঘ ১৪২৭) ২৪ জানুয়ারি ২০২১ যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক চাঁদপুর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হাজীগঞ্জকে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ইলশেপাড়ের প্রতিনিধির কাছে ইসলামী আরবী বিশ^বিদ্যালয়ের পাঠানো চিঠি প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইন অনুযায়ী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রসার প্রায় ১০ জন শিক্ষক অধ্যক্ষ সফিকুর রহমানের বিভিন্ন দুর্নীতির প্রমাণ হিসাবে তারা বলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮খ্রি. তার বিভিন্ন দুর্নীতির একটি তদন্ত প্রতিবেদন এবং ১০ নভেম্বর ২০১৮খ্রি. ইসলামি আরবী বিশ^বিদ্যালয়ে দুইজন কর্মকর্তার দ্বারা অধ্যক্ষের বিভিন্ন দুর্নীতির আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন ইসলামী আরবী বিশ^বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।
এছাড়া গত ২৮ অক্টোবর ২০১৭ খ্রি. চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সময়কার গভর্নিং বডির একজন সদস্য বলেন, আগেও অনেকবার অধ্যক্ষের দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও বিভিন্ন মহলের চাপে অধ্যক্ষ সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানেও তার অপকর্ম থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন মহলে ছুটাছুটি করছেন। তবে বর্তমান সভাপতি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাই তিনি কোনো হুমকি-ধমকিকে ভয় না করে, একজন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন মাদ্রাসা এলাকার সচেতন মহল।
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
